জনবার্তা ডেস্ক
দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হচ্ছে আজ (৫ নভেম্বর) ঢাকায়। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজিত এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ছয়টি দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছে না নেপাল।
দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) আয়োজনে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে টুর্নামেন্টের ১৫তম আসর। উদ্বোধনী দিনে মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। একই দিন স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান। দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে দলগুলো। গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল উঠবে সেমিফাইনালে। আগামী ১৪ নভেম্বর দুটি সেমিফাইনাল এবং ১৭ নভেম্বর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সাফের যাত্রা যেভাবে
১৯৯৩ সালে সার্ক গোল্ডকাপ নামে শুরু হয় দক্ষিণ এশিয়ার এই ফুটবল প্রতিযোগিতা। ১৯৯৫ সালে নাম হয় সাউথ এশিয়ান গোল্ডকাপ। ১৯৯৭ সাল থেকে এটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নামে পরিচিতি পায়।
এবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে চতুর্থবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৩, ২০০৯ ও ২০১৮ সালে দেশের মাটিতে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে ভারত
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ভারত। ১৪ আসরে অংশ নিয়ে তারা শিরোপা জিতেছে নয়বার। মালদ্বীপ দুবার এবং বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা একবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
বাংলাদেশের একমাত্র শিরোপা আসে ২০০৩ সালে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সেই আসরের ফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হয়। পরে টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।
এ ছাড়া ১৯৯৯ ও ২০০৫ সালে ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি লাল-সবুজের দল। ২০২৩ সালের সর্বশেষ আসরে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল বাংলাদেশ।
দেশগুলো কি সেরা দল পাঠাচ্ছে?
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া দলগুলো জাতীয় দলের নামে খেললেও প্রতিবারই সব দেশের নিয়মিত সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গঠন করা হয় না। আন্তর্জাতিক সূচি, খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা, ক্লাবের ব্যস্ততা এবং কোচের পরিকল্পনার ওপর দল নির্বাচন নির্ভর করে।
এবারের আসরে ভারত তুলনামূলক তরুণ দল পাঠিয়েছে। দেশটির কোচ জানিয়েছেন, দলটি তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠন করা হয়েছে। ফলে এবারের প্রতিযোগিতায় ভারতের নিয়মিত সিনিয়র দলের সব পরিচিত মুখকে দেখা যাবে না।
আবার সাফের ইতিহাসে আফগানিস্তানও একসময় নিয়মিত অংশ নিলেও ২০১৫ সালে সেন্ট্রাল এশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (সিএএফএ) সদস্য হওয়ার পর তারা আর এই প্রতিযোগিতায় খেলছে না।
সব মিলিয়ে এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপার লড়াইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ঘরের মাঠে দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা শেষ করার সুযোগ।



