৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমনি
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৬:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জনবার্তা ডেস্ক

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকার মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বরাত দিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান পরীমনি। পরে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে এজলাসে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন তিনি।

পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর মক্কেল আত্মসমর্পণ করেছেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে বুধবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে অসুস্থতার কারণে পরীমনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। তাঁর পক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরীমনির আইনজীবী জানান, অ্যালার্জিজনিত শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই দিন মামলার বাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনিসহ তিন আসামির জামিন বাতিলের আবেদন করেছিলেন। আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আদালত জামিন বাতিলের আদেশ দেন।

এর আগেও ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি মামলার অভিযোগ গঠনের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিন পান।

যেভাবে মামলার সূত্রপাত

২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের বোট ক্লাবে পরীমনি ও তাঁর সঙ্গীরা অবস্থান করছিলেন। রাত সোয়া একটার দিকে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি তাঁদের ডেকে বসার অনুরোধ করেন।

মামলার বাদী নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, একপর্যায়ে পরীমনি বিনা মূল্যে মদের বোতল চান। তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন এবং গ্লাস ও মুঠোফোন ছুড়ে মারেন। এতে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

একই ঘটনার পর নাসির উদ্দিনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে সাভার থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পাল্টা মামলা করেছিলেন পরীমনি। ওই মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। পরে ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরীমনি ও জিমি গত বছরের ২৫ জুন আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।