জনবার্তা ডেস্ক
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে। নিহতের রিকশাচালক বাবা বাদী হয়ে জুড়ী থানায় মামলাটি করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, তরুণীকে ফুসলিয়ে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনায় এক বা একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর মাগরিবের নামাজের পর থেকে তরুণী নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। পরদিন সকালে প্রতিবেশীর বাড়ির বাগানে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। ওই সময় তাঁর গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল এবং পোশাক ছিল অগোছালো বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহতের মা নারগিস বেগম জানান, তাঁর মেয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিলেন এবং বাইরের মানুষের সঙ্গে তেমন মেলামেশা করতেন না। মেয়েকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
নিহতের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলামও ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁদের মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।



