জনবার্তা ডেস্ক
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসর শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এবারের প্রতিযোগিতা। উদ্বোধনী দিনে বিকেল সাড়ে ৩টায় মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। একই দিন রাত ৮টায় ভুটানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
এবারের আসরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মালদ্বীপ—ছয়টি দল অংশ নিচ্ছে। দলগুলোকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল দুটি করে ম্যাচ খেলবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল উঠবে সেমিফাইনালে। ১৪ নভেম্বর দুটি সেমিফাইনাল এবং ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
বাংলাদেশ এর আগে ২০০৩, ২০০৯ ও ২০১৮ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করেছে। ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজের দল। সেটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের একমাত্র সাফ শিরোপা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবারও ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্বাগতিকরা।
কোচ থমাস ডুলির অধীনে অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। হামজা দেওয়ান চৌধুরী ও শমিত সোমের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তিতে দল নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে। কোচের লক্ষ্য প্রতিটি ম্যাচে জয় তুলে নেওয়া। তবে শিরোপার পথে গ্রুপ পর্ব থেকেই দলকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।
অন্যদিকে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় এসেছে। দলটির কোচ নওশাদ মুসা বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতার শক্তিশালী দল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ভারতের লক্ষ্য দশম সাফ শিরোপা জয়। ২০২৩ সালে কুয়েতকে হারিয়ে নবমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। এবারও শিরোপার দৌড়ে তাদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টুর্নামেন্টের আগে প্রচার ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছুটা ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, মাঠের খেলা শুরু হলে দর্শকদের আগ্রহ ও উন্মাদনা বাড়বে। অতীতের সাফল্যের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে ২০০৩ সালের সাফজয়ী দল এবং ২০১০ সালের এসএ গেমসজয়ী দলের সদস্যদের নিয়ে প্রীতি ম্যাচের আয়োজনও করেছে বাফুফে।
২০২৫ সালে আয়োজনের কথা থাকলেও শ্রীলঙ্কার আয়োজক হতে না পারার কারণে টুর্নামেন্টটি এক বছর পিছিয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ আয়োজকের দায়িত্ব পায়। দীর্ঘ আট বছর পর আবারও বাংলাদেশের মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এখন অপেক্ষা মাঠের লড়াইয়ের। ঘরের মাঠের দর্শক সমর্থন কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ কত দূর যেতে পারে, তার প্রথম পরীক্ষা আগামীকাল ভুটানের বিপক্ষে।



