তাহসিন হত্যা মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী তাহসিন হত্যায় ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ে ইট-বালুর ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসিন (২৭) হত্যা মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার এবং বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা ও অস্ত্র সরবরাহসহ সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনার প্রায় দুই বছর পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ইট-বালুর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাহসিনকে হত্যা করা হয়।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনার দিন একটি কালো নোহা গাড়িতে করে অস্ত্রধারীরা ওই এলাকায় যান। গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে চায়ের দোকানে বসে থাকা তাহসিনের দিকে এগিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ছোড়েন। হত্যার পর এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয়। পরে তাঁরা গাড়িতে করে পালিয়ে যান।

অভিযোগপত্রে ১১ জনের নাম

পুলিশের অভিযোগপত্রে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে আটজনের বিরুদ্ধে। তাঁরা হলেন—মো. সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ, মো. হাসান, মোহাম্মদ, মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী, মো. হেলাল, মো. ইলিয়াস হোসেন অপু, মো. বোরহান এবং মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন।

এঁদের মধ্যে ছোট সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অন্যদিকে, সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত তিনজন হলেন মো. এমরান, মো. সাইফুল ইসলাম ও শিহাব উদ্দিন সিদ্দিকী ওরফে রিহান শিহাব। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকে জানা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ এবং হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিসিটিভি, ব্যালিস্টিক ও ময়নাতদন্তের তথ্য

তদন্তে সাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের আলামত, ভিডিও ফুটেজ, ময়নাতদন্ত ও ব্যালিস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কালো নোহা গাড়ি, তাহসিনের রক্তমাখা পোশাক, স্যান্ডেল, চশমা ও রক্তের নমুনা জব্দ করেছে। হামলাকারীদের গাড়ি থেকে নামা ও ওঠার দৃশ্যসংবলিত একটি পেনড্রাইভও আলামত হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে চারটি ব্যবহৃত কার্তুজ, ১০টি ধাতব পিলেট ও ইনার ওয়াড উদ্ধার করা হয়। সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার পর ব্যালিস্টিক বিশেষজ্ঞ মুহম্মদ শাকেরুল আলম মত দেন, উদ্ধার করা কার্তুজগুলো ১২ বোরের শটগান অথবা একই ধরনের স্মুথ বোর আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক অপর্ণা দাশ ও মাহরিন ইসলাম তাহসিনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। তবে তদন্তে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, তদন্তে যাঁদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাঁদের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত বড় সাজ্জাদের অনুসারী। তবে বড় সাজ্জাদ নিজেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে বলে দাবি করে আসছেন।

অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখন আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।