ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৭, ২০২৬ ১:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। রিপাবলিকান পার্টি মধ্যবর্তী নির্বাচনে কিছুটা চাপে পড়ার কয়েক দিনের মাথায় শুক্রবার এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন তিনি।

ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মিলারকে তার অন্যতম বিশ্বস্ত উপদেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বর্তমান চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আগামী সোমবার থেকে দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে ৪১ বছর বয়সী মিলারের।

মিলারের নিয়োগকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন, জাতীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিতর্কিত নীতিতে তার দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তবে তার অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন বিতর্কিত অবস্থানের কারণে নিয়োগটি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী

স্টিফেন মিলার দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে তিনি হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও বক্তব্য লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারে যোগ দেওয়ার পর তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আসে। সাবেক ট্রাম্প উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক বক্তব্য ও নীতিগত অবস্থান তৈরিতে পর্দার আড়ালে মিলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

এর আগে থেকেই অবশ্য রক্ষণশীল রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন মিলার। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকা হাইস্কুলে পড়ার সময় স্থানীয় রেডিওতে উদারপন্থী নীতির সমালোচনা করতেন তিনি। পরে ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ডিউক কনজারভেটিভ ইউনিয়নের নেতৃত্ব দেন।

পড়াশোনা শেষে ওয়াশিংটন ডিসিতে রিপাবলিকান দলীয় আইনপ্রণেতাদের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন মিলার।

অভিবাসননীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অভিবাসননীতির অন্যতম প্রধান নীতিনির্ধারক হিসেবে মিলারের ভূমিকা ছিল বলে ব্যাপকভাবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৮ সালের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ওই নীতির আওতায় অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা করার ঘটনা ঘটে। নীতিটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

মিলার ট্রাম্পের ‘ডাকা’ (DACA) কর্মসূচি বন্ধের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছিলেন। একইভাবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৯ সালে সাউদার্ন পভার্টি ল সেন্টার মিলারের কিছু ই-মেইল প্রকাশ করার পর তার বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তবে মিলার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা রয়েছে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আরও প্রভাবশালী

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির ভিত্তিহীন দাবির সমর্থকদের মধ্যে মিলারও ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর মিলারকে নীতিবিষয়ক উপপ্রধান ও জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর অভিবাসনবিরোধী বিভিন্ন নীতির বাস্তবায়নে তার প্রভাব আরও বাড়ে।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (ICE) অভিযানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নির্ধারণেও মিলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গ্রিনল্যান্ড নিয়েও তার কঠোর অবস্থানের কথা আলোচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড দখলের অধিকার দেশটির রয়েছে—এমন মন্তব্যও তিনি করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফিলিস্তিন ইস্যুতেও কঠোর অবস্থান

ফিলিস্তিন ইস্যুতেও মিলারের অবস্থান কঠোর বলে পরিচিত। কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিবকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে তাকে ইহুদিবিদ্বেষী ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন মিলার।

ট্রাম্প প্রশাসনের ফিলিস্তিনপন্থি নীতিবিরোধী পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা হয়েছে। এসব ঘটনায় মাহমুদ খলিলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে মিলারের নীতিগত ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়ে প্রশাসনের উদ্যোগসহ অভিবাসন ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিতে মিলারের প্রভাব আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

মিলারের নিয়োগের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন, জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্তনীতিতে তার প্রভাব আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তার অতীত অবস্থান ও বিতর্কিত নীতির কারণে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে তার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে তদন্ত ও রাজনৈতিক চাপ তৈরির সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।