হরমুজে নৌ-সক্ষমতা বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্ত হচ্ছে ৭৫ সদস্য
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হরমুজের কাছে নৌ-সক্ষমতা বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া, চেওংহে ইউনিটে যুক্ত হচ্ছে ৭৫ সদস্য

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১২:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জনবার্তা ডেস্ক

হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি সামুদ্রিক এলাকায় নিজেদের নৌ-নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ লক্ষ্যে জলদস্যুবিরোধী বিশেষ চেওংহে ইউনিটের জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, সামুদ্রিক টহল বিমান এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণে দক্ষ বিশেষজ্ঞ দল মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ পরিকল্পনার কথা জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস ও ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি।

প্রস্তাব অনুযায়ী, চেওংহে ইউনিটে আরও ৭৫ জন সদস্য যুক্ত করা হবে। এতে ইউনিটটির মোট জনবল বেড়ে দাঁড়াবে ৩৯৫ জনে। নতুন করে যুক্ত হওয়া সদস্যদের মধ্যে সামুদ্রিক টহল বিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ৪৫ জন এবং বিস্ফোরক শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রমে ৩০ জন থাকবেন।

অপারেশনাল এলাকা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা

২০০৯ সাল থেকে সোমালিয়ার উপকূলবর্তী এডেন উপসাগরে জলদস্যু দমন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে চেওংহে ইউনিট। নতুন পরিকল্পনায় ইউনিটটির কার্যক্রম এডেন উপসাগর থেকে সম্প্রসারণ করে ওমানের দুকম বন্দরের দক্ষিণ দিকের আন্তর্জাতিক জলসীমা পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এলাকাটি হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরে।

এই কার্যক্রমে সহায়তার জন্য যুক্ত করা হবে পি-৮এ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান। পাশাপাশি সমুদ্রের মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে চালকবিহীন সামুদ্রিক সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক অপসারণে বিশেষজ্ঞ দল মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

যুদ্ধে জড়ানোর পরিকল্পনা নেই সিউলের

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই বিবেচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার মতো কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে চায় না সিউল।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কার্যক্রম পরিচালিত হবে ওমানের দক্ষিণ উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায়। টহল বিমানকে ইরানের ভূখণ্ড, আঞ্চলিক জলসীমা কিংবা হরমুজ প্রণালির ভেতরে নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হবে না। ইউনিটটি দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব সামরিক কমান্ডের অধীনেই কাজ করবে।

তবে নতুন করে যুক্ত হতে যাওয়া মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়করণ সরঞ্জাম ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করার আন্তর্জাতিক উদ্যোগে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশগ্রহণের প্রস্তুতিতেও কাজে আসতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সে ধরনের কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে হলে আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন

দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, বিদেশে সামরিক ইউনিট মোতায়েন বা বিদ্যমান কার্যক্রমের এলাকা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি ইতিমধ্যে উপমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিসভার পর্যালোচনার পর তা জাতীয় পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের ভাষ্য, জলদস্যুতা মোকাবিলা, দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।