ডেমোক্র্যাটদের ‘নতুন ওবামা’ হতে পারেন জন অসফ?
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডেমোক্র্যাটদের ‘নতুন ওবামা’ হতে পারেন জন অসফ?

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জনবার্তা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনো দুই বছরের বেশি দূরে। তবে এরই মধ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কলিন্সকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিনেটের আসন ধরে রাখার পর তাঁকে ঘিরে এই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, অসফ পেয়েছেন ২৪ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি ভোট, যা মোট ভোটের প্রায় ৫৯ শতাংশ। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্স পেয়েছেন প্রায় ১৭ লাখ ১২ হাজার ভোট। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়ায় জয়ী হওয়ায় রাজ্যটিতে অসফের পুনর্নির্বাচিত হওয়া রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

অসফের এই জয়ের পর ২০২৮ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন নিয়ে পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার পলিমার্কেটেও তাঁর অবস্থান বেড়েছে। বাজারটির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে অসফের সম্ভাবনা প্রায় ২৪ শতাংশ। তাঁর পরেই রয়েছেন কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। তবে এসব সংখ্যা বাজারে অংশগ্রহণকারীদের ধারণার প্রতিফলন; এগুলো কোনো জনমত জরিপ বা নির্বাচনের নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।

জর্জিয়ায় জয়, জাতীয় রাজনীতিতে নতুন পরিচিতি

৩৯ বছর বয়সী জন অসফ ২০২১ সালে জর্জিয়ার বিশেষ নির্বাচনী রান-অফে জয়ী হয়ে সিনেটে আসেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গরাজ্যে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করেছেন।

নির্বাচনী প্রচারে অসফ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। বিজয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি শুধু একজন প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

অসফের প্রচারণায় বিপুল অর্থ সংগ্রহও আলোচনায় এসেছে। তাঁর প্রচারণা তহবিলে ১০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান সংগ্রহের তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ একাই জনসমর্থনের পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না।

কেন তাঁকে ওবামার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে?

অসফের বয়স, বক্তৃতার ধরন এবং মধ্যপন্থি ও প্রগতিশীল ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরির প্রচেষ্টা তাঁকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে। এ কারণেই তাঁকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে তুলনা করছেন কেউ কেউ।

তবে দুই নেতার রাজনৈতিক যাত্রা, অভিজ্ঞতা ও সময়ের প্রেক্ষাপট এক নয়। ওবামার মতো জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত রাজনৈতিক সমর্থন তৈরি করতে অসফ কতটা সক্ষম হবেন, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার লড়াই এখনো অনেক দূরের বিষয়। ফলে জর্জিয়ায় অসফের জয় তাঁর জাতীয় পরিচিতি বাড়ালেও তাঁকে দলের ভবিষ্যৎ প্রার্থী হিসেবে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। আপাতত তাঁর সামনে রয়েছে সিনেটের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করার চ্যালেঞ্জ।