বাংলাদেশের নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেট অঞ্চল ভারতের ‘পুনরুদ্ধার’ করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির লোকসভা সদস্য নিশিকান্ত দুবে। পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের পাশাপাশি বাংলাদেশের এই অঞ্চলগুলোও ভারতের ফিরিয়ে নেওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশিকান্ত দুবে বলেন, দেশভাগের সময় ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এসব অঞ্চল পাকিস্তানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম একসময় ত্রিপুরার প্রাচীন টিপরা রাজ্যের অংশ ছিল।
বিজেপির এই সাংসদ দাবি করেন, তৎকালীন ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য এসব অঞ্চল নিয়ে নেহরুর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মহারাজা প্রশ্ন তুলেছিলেন—নিজের রাজ্যের ভূখণ্ড নিয়ে আলোচনা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেন্দ্রীয় সরকারের কোথা থেকে এলো?
নিশিকান্ত দুবে আরও বলেন, ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে মহারানি কাঞ্চনপ্রভা ভারতের সঙ্গে ত্রিপুরার অন্তর্ভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেন। এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ত্রিপুরার রাজপরিবারের অবস্থান ও আপত্তি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির এই নেতা বলেন, বন্দরটি ভারতের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশাধিকার না থাকায় ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
সাক্ষাৎকারে নোয়াখালীর ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রসঙ্গও তোলেন নিশিকান্ত দুবে। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময় নেহরু মুসলিম লীগকে অন্তর্বর্তী সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বেশি মনোযোগী ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়েও তিনি একটি দাবি করেন, যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
নিশিকান্ত দুবের এসব বক্তব্য দেশভাগের ইতিহাস ও বাংলাদেশের ভূখণ্ড নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। তবে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট বর্তমানে বাংলাদেশের সার্বভৌম ভূখণ্ড। এসব অঞ্চলকে সাবেক টিপরা রাজ্যের অংশ দাবি করা এবং দেশভাগের সময় সেগুলো হস্তান্তর নিয়ে তাঁর বক্তব্যকে ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
সূত্র: এএনআইয়ের সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদন; প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলো ও ইন্ডিয়া টুডেতে।



