সংস্কার বাস্তবায়নে নতুন জাতীয় কমিটি গঠন করছে ১১ দলীয় জোট
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংস্কার বাস্তবায়নে নতুন জাতীয় কমিটি গঠন করছে ১১ দলীয় জোট

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৫:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন একটি জাতীয় কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে জনমত তৈরি এবং আন্দোলন আরও জোরালো করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

প্রস্তাবিত কমিটিতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় সারির নেতা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ অক্টোবর রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। কমিটির নাম ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি’ অথবা ‘সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ’—এই দুটির যেকোনো একটি হতে পারে। সদস্যসংখ্যা ১৫ থেকে ২১ জনের মধ্যে রাখার একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত নাম, সদস্য তালিকা ও কর্মপদ্ধতি পরবর্তী বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে।

জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁদের বিশেষ দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তাই সংস্কার বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অংশ হিসেবেই জাতীয় কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

১১-দলীয় ঐক্যের আরেক নেতা বলেন, সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত সংস্কার পরিষদ গঠনের পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

প্রস্তাবিত কমিটিতে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান, আইনজীবী শিশির মনির এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আখতার হোসেন ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং জাগপা সভাপতি তাসমিয়া প্রধানের নামও সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

বিরোধী জোটের নেতারা মনে করছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আন্দোলনে সাধারণ মানুষ, শহীদ পরিবার, জুলাই যোদ্ধা ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জাতীয় কমিটির সম্ভাব্য কর্মসূচির মধ্যে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সভা, সারা দেশে জনসংযোগ, আইনজীবী ও কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজনের কথা রয়েছে। প্রয়োজনে মাঠপর্যায়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন জোটের নেতারা।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৬৮ শতাংশ বৈধ ভোট সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে পড়ে।

তবে সংস্কার প্রক্রিয়ার ধরন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদাভাবে শপথ নেননি। অন্যদিকে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিরোধী জোটের সদস্যরা শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলের এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

এরই মধ্যে গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করে সরকার। ওই কমিটিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিরোধী জোট এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের দিকে এগোচ্ছে, তা গণভোটের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনই একমাত্র পথ বলে দাবি করেন তিনি।