বিচার বিভাগকে আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বিচারকদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সরকার ও প্রধান বিচারপতি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের ক্ষতির ক্ষেত্রে আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির প্রভাব বেশি। এ প্রসঙ্গে তিনি সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী-সংক্রান্ত রায়ের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, ওই রায় দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর বিচারকদের কাজে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকা উচিত নয়। বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাঁকে ফেরাতে সরকার প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে।
এ ছাড়া রোহিঙ্গা গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায়ে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে বলে জানান তিনি। আগামী ১৯ নভেম্বর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আইসিজের এ মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিচার বিভাগের প্রকৃত সুফল পেতে হলে স্বাধীন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।



