সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও পাশের মধ্যনগর উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় হাসপাতালটির সেবার পরিধি প্রত্যাশিতভাবে বাড়েনি। হাসপাতালের চিকিৎসক পদের বড় অংশ শূন্য থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের অনুমোদিত ৩৬টি পদের মধ্যে ২৫টিই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত ১১ জন চিকিৎসককে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ জন রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে। এতে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে সেবা দিতে চাপ তৈরি হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
হাসপাতালের গাইনি, সার্জারি, মেডিসিন ও অ্যানেসথেসিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে জুনিয়র কনসালট্যান্ট না থাকায় বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও দক্ষ জনবলের অভাবে আধুনিক অপারেশন থিয়েটারও পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
একইভাবে এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় রোগীদের বাইরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে।
প্রসূতিসেবার ক্ষেত্রেও সংকটের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের দাবি, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেও সার্জন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় অনেক প্রসূতিকে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। ফলে রোগীদের নেত্রকোনা বা মোহনগঞ্জে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত ও অস্ত্রোপচারের ব্যয় বাড়ছে, যা হাওরাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
ডায়রিয়া রোগীদের জন্য নেই পৃথক ওয়ার্ড
হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড না থাকায় অনেককে মেঝে কিংবা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলো পরিচালনার মতো দক্ষ জনবল না থাকায় প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
হাসপাতালের জনবল সংকট ও সেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে প্রয়োজনীয় পদ পূরণ ও সেবা সচল করার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি
শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। এসব সুবিধা কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য দক্ষ জনবল নিশ্চিত করাও জরুরি।
ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শূন্য পদগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণ, বন্ধ থাকা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা সচল এবং অপারেশন থিয়েটার চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, হাওরাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালটির সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা না গেলে স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হবে। তাই ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।



