ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর পালন করছে বিএনপি, আজ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর পালন করছে বিএনপি, আজ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৭, ২০২৬ ১:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঘটনাবহুল দিন ৭ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সেনাবাহিনীতে পাল্টাপাল্টি অভ্যুত্থান ও ক্ষমতার পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলো দিনটিকে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্মরণ করে।

বিএনপি দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করছে। এ উপলক্ষে দলটি আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও শোভাযাত্রাসহ সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে। বিএনপির কর্মসূচির কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে আজ বিকেলে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যার পর দেশে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা তৈরি হয়। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সেনাবাহিনীতে একাধিক অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটে। ৩ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। একই সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দী হন।

৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে তাঁর প্রভাব বাড়তে থাকে। ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নামও ঐতিহাসিকভাবে আলোচিত হয়ে আসছে।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে ৭ নভেম্বরকে জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ওই সময় সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পেয়েছিল। তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান জনগণের সমর্থনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশে ঐক্য, সাম্য ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলেও বাণীতে উল্লেখ করা হয়।

রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে ৭ নভেম্বরের সংহতির যোগসূত্র তুলে ধরে গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তি পরবর্তী সময়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা চালিয়েছিল। পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।

তারেক রহমান আরও বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ যেন জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, তৎকালীন বন্দী জিয়াউর রহমানকে সিপাহী-জনতা ও সাধারণ মানুষ একটি ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্ত করেছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মানুষের আস্থা ও আবেগের প্রতীক জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আজ

বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকালে দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমান জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দলের পক্ষ থেকে বিকেল ৩টায় রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করার কর্মসূচি রয়েছে। বিএনপি জানিয়েছে, তারেক রহমান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে।

ভিন্ন নামে ৭ নভেম্বর পালন

রাজনৈতিক মতভেদের কারণে বিভিন্ন দল ও সংগঠন ৭ নভেম্বরকে ভিন্ন ভিন্ন নামে পালন করে