৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা: প্রধানমন্ত্রী

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৭, ২০২৬ ১:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা।

শনিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ও সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জন বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক গৌরব। এই গৌরবের পতাকা সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। তরুণ প্রজন্মকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ধারণ করে নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো অভিভাবক হিসেবে তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকার সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ সময় তিনি বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সে সময় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করেছিল। তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ২ নভেম্বর রাতে গৃহবন্দী করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই পরিস্থিতিতে সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে সিপাহী-জনতার বিপ্লব জয়ী হয়েছিল। পরবর্তী সময়েও দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিডিআর পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আবারও সেই অপশক্তির পরাজয় ঘটে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের এবং ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল স্বাধীনতা রক্ষার। ভবিষ্যতে দেশ রক্ষায় দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। দেশের স্বার্থের প্রশ্নে তরুণ প্রজন্ম কখনো আপস করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত সেটিই।

অনুষ্ঠানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ভবিষ্যতেও তরুণদের ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।