যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে পেছনে ফেলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে জয় এবং রিপাবলিকানদের আসন হারানোর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগামী দুই বছরের আইন প্রণয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন বাধা তৈরি হতে পারে।
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ৫১টি আসনের সীমা অতিক্রম করেছে ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনের আগে ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল ৫৩টি আসন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট ও তাদের সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র সদস্যদের আসন ছিল ৪৭টি। এবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়ে সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছে দলটি।
দুই অঙ্গরাজ্যে বড় চমক
এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে সাউথ ক্যারোলাইনা ও নর্থ ক্যারোলাইনায়। দুই অঙ্গরাজ্যেই রিপাবলিকানদের দখলে থাকা সিনেটের আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।
সাউথ ক্যারোলাইনা: ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলাইন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটি থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হলেন। একই সঙ্গে অ্যান্ড্রুজ সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে নির্বাচিত প্রথম নারী সিনেটর হওয়ার ইতিহাস গড়েছেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তাঁর বোন ডারলাইন গ্রাহামকে আসনটিতে অন্তর্বর্তী সিনেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে পূর্ণ মেয়াদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও জয় ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
নর্থ ক্যারোলাইনা: ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করে জয় পেয়েছেন। অঙ্গরাজ্যটির দুই মেয়াদের সাবেক গভর্নর কুপারের এই বিজয়ে রিপাবলিকানদের আরও একটি আসন হাতছাড়া হয়েছে। এ আসনের বিদায়ী সিনেটর থম টিলিস পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।
এ ছাড়া টেক্সাস, আইওয়া, ওহাইওসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন আদায় করা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সিনেটের ভূমিকা থাকায় প্রশাসনকে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে।
এ ছাড়া সিনেটের বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত, সরকারি ব্যয় এবং কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ পাবে ডেমোক্র্যাটরা। বিভিন্ন বিষয়ে শুনানি ও তদন্ত পরিচালনার মাধ্যমেও প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে দলটি।
তবে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রতিনিধি পরিষদের হাতে। সিনেটের দায়িত্ব হলো প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত ব্যক্তির বিচার পরিচালনা করা।
২০২৮ সালের নির্বাচনের সমীকরণেও প্রভাব
মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফলাফল শুধু ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়ের রাজনীতিতেই প্রভাব ফেলবে না, বরং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখেও ডেমোক্র্যাটদের জন্য নতুন রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।
রয়টার্সের নির্বাচনী বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির মূল্য, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আগামী দুই বছর রাজনৈতিক চাপের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।



