টেকনাফের পাহাড়ে তিনজনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা মেলেনি
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টেকনাফের পাহাড়ে তিনজনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা মেলেনি

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালীর পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় তিনজনের মৃত্যুর যে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল, যৌথবাহিনীর অভিযানে তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। শনিবার সকাল থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি চালিয়েও কোনো মরদেহের সন্ধান মেলেনি।

সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), এসআরবি ও পুলিশের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। হ্নীলা রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মাহবুবের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিজিবির ৬৪ ব্যাটালিয়ন, এসআরবির সদস্য এবং স্থানীয় লোকজনও অংশ নেন।

অভিযানের সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪-এর আইওএম হাসপাতালসংলগ্ন এলাকা থেকে ড্রোন ব্যবহার করে পাহাড়ি অঞ্চলে অনুসন্ধান চালানো হয়। পাশাপাশি নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিম দিকেও সেনাবাহিনী, এপিবিএন ও এসআরবির সদস্যদের আরেকটি দল তল্লাশি পরিচালনা করে।

অভিযানে কোনো সন্দেহভাজনকে আটক করা সম্ভব না হলেও পাচারকারীদের পরিত্যক্ত আস্তানা থেকে ছয় রাউন্ড গুলি, গুলির খালি খোসা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং রান্নাবান্নার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শনিবারের অভিযানে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি এবং এ ধরনের মৃত্যুর খবরের পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। দিনের অভিযান সমাপ্ত হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতেও অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর একই এলাকার রঙ্গীখালী পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথবাহিনীর অভিযানের সময় গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হন। ওই অভিযানে ৫৬ জনকে উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটক করা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক ও চার রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়।

আগের অভিযানের পর পাহাড়ে তিনজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে তল্লাশি শুরু করে যৌথবাহিনী। তবে সর্বশেষ অভিযানেও কোনো মরদেহের সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের অবসান ঘটেনি।