টেকনাফের পাহাড়ে তল্লাশি, মরদেহ না মেলায় বাড়ছে রহস্য
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টেকনাফের পাহাড়ে তল্লাশি অভিযান, মরদেহ না মেলায় বাড়ছে রহস্য

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবরের ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও কোনো মরদেহের সন্ধান পায়নি যৌথ বাহিনী। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ও রঙ্গীখালী এলাকার পাহাড়ে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে যৌথ বাহিনীর দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নেন। প্রায় তিন ঘণ্টা তল্লাশির পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাহিনীর সদস্যরা পাহাড়ি এলাকা থেকে ফিরে আসেন।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, কয়েক কিলোমিটার দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে পুরো এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে সেখানে কোনো মরদেহের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলেও জানান তিনি।

অভিযানে অংশ নেওয়া জাদিমুরা গ্রামের বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন ভুট্টো জানান, পাহাড়ে কোনো মরদেহ পাওয়া না গেলেও সেখানে কিছু রান্নার পাতিল, সৌর প্যানেল ও বিছানাপত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে কোনো কিছু লুকিয়ে রাখা কঠিন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয়দের ধারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহ থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অপরাধীরা রাতের আঁধারে সেগুলো সরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই এলাকায় মানবপাচারকারীদের একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। ওই অভিযানে ৫৬ জনকে উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটক করা হয়। এ সময় গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ (২৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পাহাড়ে মরদেহ থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার হওয়া কয়েকজন ভুক্তভোগীও এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। পরে শুক্রবার কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, রঙ্গীখালীর পাহাড়ে মরদেহ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে; তবে উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

শনিবার যৌথ বাহিনীর কয়েক ঘণ্টার তল্লাশির পরও কোনো মরদেহ না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন ও রহস্য তৈরি হয়েছে। তবে মরদেহের অস্তিত্ব, সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না বা সেখানে আসলে কী ঘটেছিল—এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।