সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঘরের কোণে রাখা স্মার্ট স্পিকারকে প্রশ্ন করল নয় বছরের শিশু নাঈম (ছদ্মনাম), ‘আজ রাতে কি বৃষ্টি হবে?’ যন্ত্রটি আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানিয়ে ছাতা সঙ্গে নেওয়ার পরামর্শও দিল। শিশুটি খিলখিল করে হেসে উঠলেও তার মায়ের মনে প্রশ্ন জাগল—যন্ত্রটি কি তাহলে সারাক্ষণই ঘরের মানুষের কথা শুনছে?
আধুনিক স্মার্ট স্পিকার বা ডিজিটাল হোম অ্যাসিস্ট্যান্ট এখন শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হওয়ায় গুগলের জেমিনি ও অ্যামাজনের অ্যালেক্সার মতো প্রযুক্তি দিয়ে ঘরের স্মার্ট বাতি নিয়ন্ত্রণ, ক্যালেন্ডার গোছানো, রিমাইন্ডার সেট করা এবং বিভিন্ন তথ্য জানার মতো কাজ করা যায়। কিছু উন্নত সুবিধা ব্যবহারের জন্য আবার সাবস্ক্রিপশনের প্রয়োজন হতে পারে।
তবে এসব সুবিধার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। স্মার্ট স্পিকার সাধারণত নির্দিষ্ট শব্দ বা ‘ওয়েক ওয়ার্ড’ শনাক্ত করার জন্য মাইক্রোফোন সচল রাখে। ব্যবহারকারী নির্ধারিত শব্দটি বললে ডিভাইসটি নির্দেশ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করে। এরপর অনেক ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বরের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য কোম্পানির সার্ভারে পাঠানো হয়।
অর্থাৎ, মাইক্রোফোন সচল থাকা মানেই প্রতিটি কথোপকথন রেকর্ড বা সংরক্ষণ করা হচ্ছে—এমন নয়। তবে ভুল করে সক্রিয় হয়ে যাওয়া, ভয়েস কমান্ড রেকর্ড হওয়া কিংবা সংরক্ষিত তথ্যের ব্যবহার নিয়ে গোপনীয়তার ঝুঁকি থাকতে পারে। কোন তথ্য কীভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হবে, তা নির্ভর করে ডিভাইস, সেটিংস এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা নীতির ওপর।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় যা করবেন
১. সংবেদনশীল বা ব্যক্তিগত আলাপের সময় ডিভাইসের মাইক্রোফোন বন্ধ রাখুন।
২. নিয়মিত ভয়েস রেকর্ডিংয়ের ইতিহাস ও সংরক্ষিত তথ্য পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় রেকর্ড মুছে ফেলুন।
৩. পিন কোড, পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকিং তথ্যের মতো গোপনীয় বিষয় স্মার্ট স্পিকারের সামনে উচ্চারণ করা থেকে বিরত থাকুন।
৪. ডিভাইসের মাইক্রোফোন, ভয়েস হিস্ট্রি ও ডেটা সংরক্ষণের সেটিংস পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী ভয়েস রেকর্ডিং সংরক্ষণ বন্ধ বা সীমিত রাখুন।
প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। স্মার্ট স্পিকার ব্যবহার করবেন কি না, তা আপনার সিদ্ধান্ত; তবে এর মাইক্রোফোন ও তথ্য সংরক্ষণের নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সচেতন থাকাই ঘরের গোপনীয়তা রক্ষার প্রথম পদক্ষেপ।



