কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ২, ২০২৬ ৩:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে সামনে আসছে। গত ১২ বছরের পরিসংখ্যানে সৈকতে ৮৫ জন পর্যটকের ডুবে মৃত্যুর তথ্য উঠে এসেছে। গত ২১ অক্টোবর এক দিনেই পাঁচজন পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনা সৈকতের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পর্যটনের অন্যান্য স্থানেও দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা নিরাপত্তার ঘাটতির বিষয়টি সামনে আনছে। টাঙ্গুয়ার হাওরে চার মাসে পাঁচ পর্যটকের মৃত্যু এবং কক্সবাজারের ইনানীর একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনাও এ উদ্বেগকে বাড়িয়েছে।

পর্যটকদের অসচেতনতা এসব দুর্ঘটনার অন্যতম ঝুঁকির কারণ। অনেকেই সাঁতার না জেনেও লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই উত্তাল সমুদ্রে নামেন। লাল নিশানা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা কিংবা গুপ্তখালের মতো বিপজ্জনক স্থান এড়িয়ে চলার নির্দেশনাও অনেকে মানেন না। জোয়ার-ভাটার সময় সম্পর্কে ধারণার অভাব এবং নির্ধারিত সতর্কতার সময়ের পরও সাগরে অবস্থান করার প্রবণতা বিপদের আশঙ্কা বাড়ায়। সমুদ্রের তলদেশে থাকা গুপ্তখাল ও গর্ত সম্পর্কে পর্যটকদের যথাযথভাবে সতর্ক করা না হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

তবে পর্যটকদের অসচেতনতার দায় দেখিয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার সৈকতে এখনো পর্যাপ্ত দক্ষ উদ্ধারকর্মী, ডুবুরি ও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা যায়নি—এমন অভিযোগ রয়েছে। সৈকতের অনেক পয়েন্ট অরক্ষিত থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। হোটেল ও রিসোর্টে অবস্থান নেওয়ার সময় পর্যটকদের নিরাপত্তা নির্দেশিকা দেওয়া কিংবা মোবাইলে সতর্কতামূলক বার্তা পাঠানোর মতো উদ্যোগও আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

পর্যটন খাতকে শুধু আয় ও ব্যবসার উৎস হিসেবে দেখলে চলবে না। পর্যটকদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং পর্যটন ব্যবসায়ীদের অন্যতম দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে সমন্বিত ও স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

প্রাণহানি কমাতে সৈকতের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড নিয়োগ করতে হবে। জরুরি উদ্ধারের জন্য আধুনিক সরঞ্জামসহ ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে দৃশ্যমান সতর্কসংকেত, নিয়মিত নজরদারি এবং জোয়ার-ভাটার সময়সংক্রান্ত তথ্য জানাতে হবে। পাশাপাশি হোটেল ও রিসোর্টে নিবন্ধনের সময় পর্যটকদের নিরাপত্তা নির্দেশিকা দেওয়া এবং ডিজিটাল বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের বিকাশ নির্ভর করে পর্যটকদের আস্থা ও নিরাপত্তার ওপর। সৈকতে আনন্দ ভ্রমণ যেন কোনো পরিবারের জন্য শোকের কারণ না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো ঐচ্ছিক উদ্যোগ নয়; এটি মৌলিক দায়িত্ব।