ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতার খবরে বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার (২ নভেম্বর) এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ০৪:০৭ GMT-এ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার ৬৮ সেন্ট বা ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১০৯ ডলার ৭৫ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৩ ডলার ৪৩ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১০০ ডলার ৬৯ সেন্টে।
ইরান ও কাতারের কর্মকর্তারা টানা তৃতীয় দিনের মতো যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পর বাজারে এই স্বস্তি দেখা যায়। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ফলে সংঘাতের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
গত মাসে বেড়েছিল তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কায় গত সপ্তাহে তেলের দাম বেড়েছিল। অক্টোবরের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। মাসজুড়ে ব্রেন্টের দাম ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছিল বলে বাজার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার রয়টার্সকে বলেন, গত সপ্তাহে তেলের দামে বড় ধরনের বৃদ্ধির পর বাজারে এখন কিছুটা সংশোধন হচ্ছে। কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সপ্তাহান্তে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা না বাড়ায় তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
তবে ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ওয়াটারার।
আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত, তবে ঝুঁকি রয়ে গেছে
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতায় পরামর্শ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তাতে অগ্রগতি হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইরান কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা—উভয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। নির্বাচনের পর ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আবার বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। ফলে আলোচনার অগ্রগতির খবরে তেলের দাম কমলেও ব্যবসায়ীরা সরবরাহ ও সংঘাতের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণে রাখছেন।
ওপেক প্লাসের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত
এদিকে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমানসহ ওপেক প্লাসের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদেশ ডিসেম্বরের জন্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ নভেম্বর অনলাইন বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন নীতিতে বড় পরিবর্তনের বদলে আপাতত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে জোটের সদস্যরা। আগামী ২৯ নভেম্বর ওপেক প্লাসের পূর্ণাঙ্গ জোটের বৈঠকে ২০২৭ সালের উৎপাদন কাঠামো ও কোটা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সব মিলিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি আপাতত তেলের বাজারে স্বস্তি এনেছে। তবে যুদ্ধের অবসান, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পরবর্তী নীতিগত অবস্থান—এই তিন বিষয়ই আগামী দিনগুলোতে তেলের দামের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।



