জনবার্তা ডেস্ক
ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনের বিরোধিতা করে একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের দলগুলো গাদি আইজেনকটকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকার গঠনের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) হার্জলিয়ায় বৈঠকে বসছেন বিরোধী জোটের নেতারা। নির্বাচনের পর এটিই তাঁদের প্রথম যৌথ বৈঠক। আইজেনকটের দল ইয়াশার জানিয়েছে, জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ সমন্বয় করাই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
আসন সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ আরব দলগুলো
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। এর মধ্যে তাঁর দল লিকুদ পার্টির আসন ২৭টি। অন্যদিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।
ইসরায়েলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ আসনের সমর্থন। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এ অবস্থায় সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলের ইহুদি জনগণের বড় অংশ লিকুদকে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে এবং তাঁকে পরবর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাই তিনি বর্তমান অংশীদারদের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না—এমন যেকোনো দলের সঙ্গে বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনে আগ্রহী।
আরব দলগুলোকে নিয়ে নেতানিয়াহুর আপত্তি
আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন নেতানিয়াহু। তাঁর অভিযোগ, এসব দল সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে স্বীকার করে না। তবে আরব দলগুলোর নেতারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়েছিলেন। হামাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে তাঁদের অবস্থান ভিন্ন।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না—এমন যেকোনো দলের সঙ্গে তিনি সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনায় প্রস্তুত।
আইজেনকটকে সমর্থনে বিরোধী জোট
বিরোধী জোটের চার দলের নেতারা আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সুপারিশ করার কথা জানিয়েছেন। জোটের বৈঠকে আইজেনকট ছাড়াও নাফতালি বেনেট, আভিগদর লিবারম্যান, ইয়ার গোলান এবং ইয়ার লাপিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার প্রশ্নে বিরোধী জোটের ভেতরেও মতপার্থক্য রয়েছে। ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে, আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। নাফতালি বেনেটের দলের অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়া গেলে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সুপারিশ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এই সমর্থন নিয়ে বিরোধী জোটের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো হয়নি।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধবার থেকে নির্বাচিত দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করবেন বলে জানা গেছে। এরপর সরকার গঠনের জন্য একজন প্রার্থীকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে পার্লামেন্টের নতুন সদস্যদের শপথ গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে ১০ নভেম্বর।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আলোচনা এখন জটিল দর-কষাকষির দিকে এগোচ্ছে। আরব দলগুলোর সমর্থন, বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং নেতানিয়াহুর বৃহত্তর সরকার গঠনের প্রস্তাব—এই তিনটি বিষয়ই পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



