ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ তুলে আয়োজিত ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
রোববার (১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে রাহুল গান্ধী বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর মোদি ও অমিত শাহের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপের দাবি তোলা হবে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় ভোট কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে বিজেপি। তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপির বক্তব্যও রয়েছে।
সমাবেশে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে ‘ভ্যানিশ কুমার’ আখ্যা দেন। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দল ভোটে হারেনি, বরং তাদের হারানো হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ভোট কারচুপির ঘটনা দেশবাসী দেখেছে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে। অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন।
বিহারের বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে মহাভারতের শকুনি মামার সঙ্গে তুলনা করেন। সমাবেশে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সিপিআইএম নেতা এম এ বেবি, দীপঙ্কর ভট্টাচার্যসহ বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সোনিয়া গান্ধী সমাবেশে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেননি।
দিল্লি পুলিশের শর্তসাপেক্ষ অনুমতি অনুযায়ী বিকেল পাঁচটার মধ্যে সমাবেশ শেষ করার কথা ছিল। প্রতিটি বক্তার জন্যও নির্ধারিত ছিল পাঁচ মিনিট সময়। দুপুরের দিকে খাড়গে, রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী নেতারা হুডখোলা গাড়িতে মিছিল করে রামলীলা ময়দানে পৌঁছান। মিছিলটি কনট প্লেস-মিন্টো রোড ক্রসিং থেকে শুরু হয়। পথে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।
সমাবেশে হাজারো মানুষ অংশ নেন। ময়দান ও আশপাশের এলাকায় ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা। পুলিশের অনুমতিতে সমাবেশের সময়, যানবাহন চলাচল ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে একাধিক শর্ত ছিল।
এদিকে বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হলো ভুয়া, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়া। রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও কমিশন অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভুলভাবে কারও নাম বাদ পড়লে পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগের বিরোধিতা করেছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের ধারাবাহিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আগামী বছরের কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে এই কর্মসূচি বিরোধী জোটের রাজনৈতিক প্রচারেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



