সরকারি বাসা ছাড়ার নির্দেশে বিপাকে শিক্ষার্থীরা, আবাসন সংকট
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সরকারি বাসা ছাড়ার নির্দেশে বিপাকে শিক্ষার্থীরা, পরীক্ষার আগে আবাসন সংকট

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ১, ২০২৬ ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জনবার্তা ডেস্ক

সরকারি আবাসিক ফ্ল্যাটে সাবলেট বা ভাড়াটে রাখার বিরুদ্ধে নির্দেশনা জারির পর রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি কলোনিতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি বাসা থেকে সব ভাড়াটেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীর বাসা বরাদ্দ বাতিলসহ আইনগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এ নির্দেশনার পর রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় সাবলেটে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী হঠাৎ বাসা ছাড়ার নোটিশ পেয়ে আবাসন সংকটে পড়েছেন।

ইডেন মহিলা কলেজের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, গত ২২ অক্টোবর তাঁকে বাসা ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়। তখন তিনি দুর্গাপূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। ২৬ অক্টোবর ঢাকায় ফিরে জানতে পারেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে বাসা ছাড়তে হবে।

ওই শিক্ষার্থী জানান, কোনো ছাড় না পেয়ে শনিবার সকালে ভ্যানে করে আসবাবপত্র নিয়ে বাসা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তিনি। কোথায় থাকবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তাঁর সামনে ডিসেম্বর মাসে চূড়ান্ত পরীক্ষা। এমন পরিস্থিতিতে পড়াশোনার প্রস্তুতিও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের তৃতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী। তাঁর অভিযোগ, বাসা ভাড়ার সময় দুই মাস আগে নোটিশ দেওয়ার মৌখিক চুক্তি থাকলেও তা মানা হয়নি। নতুন বাসা খুঁজতে প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হচ্ছে তাঁকে।

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আবাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজের আবাসিক হলে আসন না পাওয়ায় তাঁরা বাধ্য হয়ে সরকারি বাসায় সাবলেটে থাকছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা কলেজ প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে হলের আসন বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না হলে পড়াশোনায় আরও বিঘ্ন ঘটবে।

এ বিষয়ে ২২ নম্বর ভবন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বলেন, ওই ভবনে মূলত কম বেতনের সরকারি কর্মচারীরা বসবাস করেন। তাঁদের কেউ কেউ একটি কক্ষ ভাড়া দিয়েছিলেন। তবে নির্দেশনা পাওয়ার পর ভাড়াটেদের বাসা ছাড়তে বলা হয়েছে এবং অনেকেই ইতিমধ্যে চলে গেছেন।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের নির্দেশনা বাস্তবায়নের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কীভাবে মোকাবিলা হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামনে পরীক্ষা থাকায় দ্রুত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।