যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। চার বছর পর আবারও এই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। নির্বাচনের ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রগতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
সিবিএস নিউজের নির্বাচনী পূর্বাভাসে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ৪৩৫ আসনের এই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন অন্তত ২১৮টি আসন। নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের হাতে ছিল ২১৮টি আসন এবং ডেমোক্র্যাটদের দখলে ছিল ২১৪টি আসন। এ ছাড়া একজন স্বতন্ত্র সদস্য সাধারণত রিপাবলিকানদের সঙ্গে ভোট দিতেন এবং দুটি আসন শূন্য ছিল।
রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের পাশাপাশি সিনেটেও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে বিরোধী দলের শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে।
ভোটারদের অসন্তোষে চাপে রিপাবলিকানরা
নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি ও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক ভোটার ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ হিসেবে এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটার দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ বা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন।
জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৯ জন ভোটার জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
ডেমোক্র্যাটদের হাতে বাড়ছে নজরদারির ক্ষমতা
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আইন প্রণয়ন, বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব এবং সরকারি কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারিতে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা।
বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি, সরকারি ব্যয় এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত ও শুনানি আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে আগামী দুই বছরে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কংগ্রেসের রাজনৈতিক বিরোধ আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণও ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরোধী দলের অবস্থান বিবেচনায় নিতে হবে।
২০২৮ সালের নির্বাচনেও প্রভাবের সম্ভাবনা
মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফলাফল শুধু ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়ের রাজনীতিতেই নয়, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো রিপাবলিকানদের জন্য আগামী দুই বছরে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ বাড়বে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি মেয়াদে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের সম্পর্ক কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।



