রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের প্রস্তুতি দ্রুত শুরু না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেছেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হলে ক্যাম্পাসে দখলদারিত্ব, সিট বাণিজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।
রোববার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে চলমান স্থবিরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আম্মার বলেন, শুধু রাকসু নয়, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনও অচল হওয়ার পথে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের কমিশন কার্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সেখানে নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত চেয়ার-টেবিল সরিয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষক সমিতির কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আম্মার বলেন, ছাত্র সংসদগুলোর এমন অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন শিক্ষার্থীও রাকসুকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে রাকসু নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি শুরু না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে নয়, নিজের নয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে ‘রাবি সংস্কার আন্দোলন’ প্ল্যাটফর্মে আবারও সক্রিয় হওয়ার কথা জানান আম্মার।
তিনি বলেন, “যে নয় দফা দাবি নিয়ে আমরা কাজ করেছিলাম, সেই ধারাবাহিকতায় আমি আবারও ‘রাবি সংস্কার আন্দোলন’ প্ল্যাটফর্মে ফিরে যাচ্ছি। আমার নিজস্ব কোনো ব্যানার কিংবা রাজনৈতিক সংগঠন নেই।”
রাকসুর কার্যকারিতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে প্রশ্ন উঠেছে, সে প্রসঙ্গে আম্মার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটি সফল ও কার্যকর রাকসু গঠনের দাবি জোরালো করা উচিত। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই আদর্শ ও কার্যকর ছাত্র সংসদ গড়ে উঠবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।



