কুমিল্লার গোমতী নদীর চরে আবারও অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। নদীর বুকে গভীর গর্ত করে মাটি তুলে নেওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে পাশের ফসলি জমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। এমনকি মাটি কাটার কারণে চরের কিনারায় থাকা দুটি তালগাছও যেকোনো সময় উপড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
গত মঙ্গলবার কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় গোমতী নদীর চরে সরেজমিনে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট গভীর গর্ত দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, নদীর চর থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়ার কারণে আশপাশের জমি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন যুবক জানান, মাটি কাটার ফলে চরের কিনারায় থাকা দুটি তালগাছ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বর্ষাকালে বজ্রপাত থেকে রক্ষায় তালগাছের গুরুত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তাঁরা গাছ দুটি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা মমতাজ সরদারের অভিযোগ, দিনের বেলায় মাটি কাটা না হলেও মধ্যরাতের পর ট্রলিতে করে মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব মাটি কোথায় নেওয়া হচ্ছে, তা স্থানীয়দের জানা নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটি কাটার সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী জড়িত। এ ছাড়া মাটি কাটার পেছনে একটি প্রভাবশালী চক্র কাজ করছে বলেও তাঁদের দাবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় কুমিল্লার দুই উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ২০২৫ সালে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তৎপরতায় মাটি কাটার কার্যক্রম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত এক সপ্তাহে নদীর বিভিন্ন স্থানে আবারও মাটি কাটা শুরু হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, বর্তমানে গোমতী নদীর চরে তাদের কোনো প্রকল্প চালু নেই। কারা মাটি কাটছে, তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংরাইশ এলাকার ইলিয়াস নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ইলিয়াসের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
আদর্শ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশিয়াত আক্তার জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁদের দপ্তরে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে কেউ অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুন জানিয়েছেন, গোমতী নদীর চর থেকে মাটি কাটার জন্য কাউকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় যুবকদের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কাটতে থাকলে তালগাছ দুটি শিগগিরই উপড়ে পড়তে পারে। তাঁরা নদীর চর থেকে অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ এবং ফসলি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।



