সিসিটি পরিচালনায় সৌদি , বিনিয়োগের পরিকল্পনা ১ বিলিয়ন ডলার
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চট্টগ্রামের সিসিটি পরিচালনায় সৌদি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ, বিনিয়োগের পরিকল্পনা ১ বিলিয়ন ডলার

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ২, ২০২৬ ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনার পর এবার চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই)। টার্মিনালটির দায়িত্ব পেলে অন্তত ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে অংশ না নিয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে সিসিটি পরিচালনার দায়িত্ব পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠিয়েছে আরএসজিটিআই। গত সেপ্টেম্বর মাসে সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

আরএসজিটিআইয়ের হেড অব কমার্শিয়াল সৈয়দ আরেফ সারোয়ার জানান, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠানটি পিসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। শুরুতে যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে পরিচালন সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ ছয় মাসে পিসিটিতে ৩৪টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৮টিতে। আর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে। বর্তমানে এনসিটির তুলনায় পিসিটিতে বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন সৈয়দ আরেফ সারোয়ার।

সিসিটিতে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা

সিসিটি পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সেখানে অন্তত ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সৈয়দ আরেফ সারোয়ার। তাঁর ভাষ্য, পিসিটির আদলে সিসিটিকে আধুনিক টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তুতি রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। গত ৮ অক্টোবর এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে টার্মিনাল বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে।

বিদেশি অপারেটর নিয়োগ নিয়ে আন্দোলন

বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আট দিনব্যাপী কর্মবিরতি ও অবরোধের কারণে বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল। পরবর্তী সময়েও কালো পতাকা ও মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা।

বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বিদেশি অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ার আড়ালে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কমিশন বাণিজ্যের স্বার্থ কাজ করছে। দেশীয় একাধিক প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাদের উপেক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান।

বিনিয়োগের অঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন বিশেষজ্ঞের

সিসিটিতে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বন্দর বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) জাফর আলম। তাঁর মতে, সিসিটি তুলনামূলক ছোট টার্মিনাল। এর জেটিতে চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন রয়েছে এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৫০ মিটার। এ অবকাঠামোতে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

জাফর আলমের মতে, সিসিটি এনসিটির পাশে অবস্থিত হওয়ায় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হলে প্রতিযোগিতা বাড়ত এবং বাংলাদেশ আরও বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ পেত। তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট অ্যাক্টের আওতায় জিটুজি পদ্ধতিতে টার্মিনাল হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ছাড়া সাধারণ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র অনুসরণ করাই শ্রেয়।

সিসিটির কনটেইনার হ্যান্ডলিং

প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিসিটি টার্মিনালে আমদানি করা ২ লাখ ২৪ হাজার এবং রপ্তানি করা ২ লাখ ৬ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। সব মিলিয়ে এ সংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মোট ১৮টি গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টি এনসিটিতে এবং বাকি চারটি সিসিটিতে রয়েছে। এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়ার মধ্যেই সিসিটি পরিচালনায় আরএসজিটিআইয়ের আগ্রহ নতুন করে বন্দরের টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ ও দরপত্র পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।