জনবার্তা ডেস্ক
পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে ৪০০ থেকে ৫০০ জন নিয়োগ দিতে বিশেষ বিসিএস আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও সংশয়। তবে ৫২তম বিসিএস বিশেষ হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) জানিয়েছে, ৫২তম বিসিএস বিশেষ করার বিষয়ে কমিশনের অভ্যন্তরে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। এএসপি নিয়োগের জন্য সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্রও পায়নি কমিশন।
এর আগে ৫২তম বিসিএস সাধারণ বিসিএস হিসেবে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। পিএসসির পূর্বঘোষিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে এ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছিল। তবে ৫১তম বিসিএস চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ বিসিএস হিসেবে আয়োজনের পর নতুন করে এএসপি নিয়োগে আরেকটি বিশেষ বিসিএসের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে সাধারণ ক্যাডারপ্রত্যাশীদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান বলেন, ‘৫২তম বিসিএস বিশেষ হবে কি না, সে বিষয়ে পিএসসিতে কোনো আলোচনা হয়নি। ৪০০ থেকে ৫০০ জন এএসপি নিয়োগের কোনো প্রস্তাব বা চাহিদাপত্র আমরা এখনো হাতে পাইনি।’
তিনি জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চাহিদা পাওয়ার পর তা কমিশনের বোর্ড সভায় উত্থাপন করা হয়। চূড়ান্ত চাহিদাপত্র না আসা পর্যন্ত পিএসসি নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সাধারণ বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়ে এগোবে।
সাধারণত বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পদে দ্রুত নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার ধাপ ও সময়সূচি নিয়োগের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত হতে পারে। তবে পরপর বিশেষ বিসিএস আয়োজন করা হলে সাধারণ ক্যাডারে নিয়োগপ্রত্যাশীদের অপেক্ষা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
এর আগে ৫১তম বিসিএস সাধারণ হওয়ার কথা থাকলেও চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ বিসিএস হিসেবে আয়োজন করা হয়। ৫ হাজার পদের মধ্যে ৪ হাজার ৭০০টি সহকারী সার্জন এবং ৩০০টি ডেন্টাল সার্জনের পদ। এসব পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৪৪ হাজার ৬৩৫ জন চিকিৎসক।
এদিকে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর। পিএসসির কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, এ বিসিএসের ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পুলিশে এএসপি নিয়োগের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগের পর কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সময় কমিয়ে দ্রুত মাঠপর্যায়ে পদায়নের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই ও সতর্কতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে এএসপি নিয়োগের বিশেষ বিসিএস আয়োজন, পদসংখ্যা এবং প্রশিক্ষণসংক্রান্ত বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ৫২তম বিসিএস সাধারণ হবে, নাকি বিশেষ—তা নির্ভর করছে সরকারের আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র ও পিএসসির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।



