সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬: ঘরের মাঠে শিরোপার আশায় বাংলাদেশ
ঢাকা, , |
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঘরের মাঠে সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধারের আশা, বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকেরা

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

২৩ বছরের শিরোপাখরা কাটানোর লক্ষ্য নিয়ে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নামছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে প্রথম ও একমাত্রবারের মতো এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজের দল। এরপর একাধিক আসরে অংশ নিলেও আর ট্রফি জেতা হয়নি। আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাফের ১৫তম আসর। স্বাগতিক হিসেবে এবার শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী ফুটবল বিশ্লেষকেরা।

এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ছয়টি দল—বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। ফিফার নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় নেপাল টুর্নামেন্টে খেলতে পারছে না। ২০২৩ সালের সর্বশেষ আসরে আটটি দল অংশ নিয়েছিল। সেবার ফাইনালে কুয়েতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত।

এবার বাংলাদেশ রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। এই গ্রুপের অন্য দুই দল শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। ভারতের জাতীয় দলের পরিবর্তে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ নওশাদ মুসার অধীনে ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দলটিতে সিনিয়র দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ও রয়েছেন।

বাংলাদেশের দলে হামজা চৌধুরী, শমিত সোমসহ প্রবাসী ফুটবলারদের উপস্থিতি দলের শক্তি বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান দলেও প্রবাসী ও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ রয়েছে। ফলে এই দুই দলকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য মনে করেন, স্বাগতিক সুবিধা এবং প্রতিপক্ষ দলগুলোর শক্তি-সামর্থ্য বিবেচনায় এবার বাংলাদেশের সামনে শিরোপা জয়ের ভালো সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, হামজা চৌধুরীদের উপস্থিতি দলকে আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। তবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। তাঁর প্রত্যাশা, বাংলাদেশ অন্তত ফাইনালে খেলবে।

২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের সাবেক স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদও বাংলাদেশের দলীয় সামর্থ্য নিয়ে আশাবাদী। তাঁর মতে, দলে বিশ্বমানের খেলোয়াড় থাকায় শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে সেই লক্ষ্য পূরণে কোচ থমাস ডুলির কৌশল ও পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আলফাজের মতে, বাংলাদেশের আক্রমণভাগের দুর্বলতা কাটানো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ‘নাম্বার নাইন’ পজিশনে কার্যকর খেলোয়াড় নির্বাচন এবং উইং থেকে সঠিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। সুকি ও ফারহানের মতো খেলোয়াড়েরা আক্রমণে যথাযথ সমর্থন পেলে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন বলে আশা তাঁর।

আক্রমণভাগ ও আত্মবিশ্বাস ফেরানোই চ্যালেঞ্জ

সাম্প্রতিক ফিফা আসিয়ান কাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সাফে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ওই প্রতিযোগিতায় তিন ম্যাচে ১৩টি গোল হজম করেছিল দলটি। সাবেক গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্যের মতে, ওই ব্যর্থতার দায় শুধু গোলরক্ষকদের নয়; পুরো দলের পারফরম্যান্সই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

তাঁর মতে, সাফের আগে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙা রাখা এবং আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা জরুরি। দলীয় সমন্বয়, একাদশ নির্বাচন ও কৌশল নির্ধারণে কোচের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ঘরের মাঠে দর্শকদের সমর্থন, প্রবাসী ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা এবং প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় বাংলাদেশের সামনে শিরোপা জয়ের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকেরা। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা, রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও দলীয় সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।