জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল ইউরোপের চার দেশ, ফ্রান্সে গ্রেপ্তার ৫৬৫
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল ইউরোপের চার দেশ, ফ্রান্সে ৫৬৫ জন গ্রেপ্তারের দাবি

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ১, ২০২৬ ১:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং নীতিনির্ধারণে তরুণদের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে ইউরোপের কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ করেছেন জেন-জি প্রজন্মের তরুণেরা। শনিবার ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড ও ইতালিতে বিভিন্ন দাবিতে রাজপথে নামেন হাজারো মানুষ। কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কোথাও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে ৫৬৫ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্রান্সে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৫৬৫

হ্যালোইন উদ্‌যাপনের মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী প্যারিস, লিওঁ, তুলুজ ও মার্সেইসহ একাধিক স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন। সহিংসতায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং ৫৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

প্যারিসের আন্দোলনকারী জেরোম রদ্রিগেজ অভিযোগ করেন, সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ পরিবারগুলো জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পদ্ধতির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও পরে এতে শ্রমিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকারীরাও যুক্ত হন।

এদিকে ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ ফ্রান্সের ঋণমানের ভবিষ্যৎ অবস্থান নেতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সরকারি ঋণ ও ঋণ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির সরকারের ওপর আর্থিক চাপও বাড়ছে।

জার্মানিতে ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

একই রাতে জার্মানির বার্লিন, কোলন, হামবুর্গ ও ফ্রাঙ্কফুর্টসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়। ‘জেনজি রেগেল্ট!’ নামের সংগঠনের ব্যানারে তরুণদের অধিকার ও দাবির পক্ষে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথমদিকে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার পর কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফ্রাঙ্কফুর্টে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর, আতশবাজি ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও পিপার স্প্রে ব্যবহার করে।

হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক দাবি করেন, ফ্রাঙ্কফুর্টের কর্মসূচিতে প্রায় ১০০ জন চিহ্নিত বামপন্থি উগ্রবাদী অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা উসকে দিয়েছেন।

বার্লিন ও বন শহরেও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ডিম ও বোতল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক তরুণ এএফপিকে বলেন, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানো গুরুত্বপূর্ণ।

পোল্যান্ডে আদালত নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা

পোল্যান্ডে সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের প্রধানকে বরখাস্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা দ্বিতীয় রাতের মতো বিক্ষোভ করেন শত শত মানুষ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার যুক্তিতে প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের সরকার আদালতের প্রধানকে সরানোর উদ্যোগ নেয়। তবে বিরোধীরা সরকারের পদক্ষেপকে ‘অভ্যুত্থান’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সেনেগাল সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরেন প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরোকি। দেশে ফিরে তিনি সাংবিধানিক আদালত ভবনে যান এবং সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া আদালত প্রধানকে ভবনে প্রবেশে সহায়তা করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আদালত ভবনের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে তিন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

ইতালিতেও রাজপথে হাজারো মানুষ

ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো ইতালিতেও শনিবার হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবা জোরদারের দাবি জানান তাঁরা।

এ ছাড়া সরকারি বাজেটে সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদও জানান বিক্ষোভকারীরা। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একই সময়ে ছড়িয়ে পড়া এসব বিক্ষোভে জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি নীতি, শ্রমিক অধিকার ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তরুণদের অসন্তোষ সামনে এসেছে। তবে দেশভেদে আন্দোলনের কারণ ও দাবিতে পার্থক্য রয়েছে।