মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার অভিযোগ, ২৮ বিশিষ্ট নাগরিকের প্রতিবাদ
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার অভিযোগ, ২৮ বিশিষ্ট নাগরিকের প্রতিবাদ

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ১, ২০২৬ ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জনবার্তা ডেস্ক

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন দেশের ২৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত একজন মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা নির্ধারণের এখতিয়ার রাষ্ট্রের। কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকার রাখে না। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষবিদায়কে ঘিরে এমন পরিস্থিতি রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী মারা যান। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

বিবৃতিদাতাদের অভিযোগ, মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কর্মী-সমর্থকেরা বাধা সৃষ্টি করেন। প্রথমবার কবর খোঁড়ার পর সেটি ভরাট করে দেওয়া হয়। এতে প্রায় ১৫ ঘণ্টা দাফন কার্যক্রম আটকে থাকে। পরে গভীর রাতে তাঁর মেয়ে ও দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোনের আলোয় পুনরায় কবর খনন করেন। পুলিশি নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইতিহাস রয়েছে—এমন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া কোনো ধর্মের শিক্ষা নয়; বরং এটি মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী।

বিশিষ্ট নাগরিকেরা মনে করেন, মানিক পশারীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা শুধু অসম্মানজনক নয়, এটি ফৌজদারি অপরাধের শামিল হতে পারে। তাঁরা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে মৃত ব্যক্তির শেষবিদায়ে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা রাষ্ট্র কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারে না। প্রয়োজন মনে করলে রাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করতে পারে; তবে সে দায়িত্ব রাষ্ট্রের, কোনো রাজনৈতিক দলের নয়।

এ যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, খুশী কবির, জেড আই খান পান্না, ইফতেখারুজ্জামান, শাহীন আনাম, রেহনুমা আহমেদ, শহিদুল আলম, স্বপন আদনান, শামসুল হুদা, তবারক হোসেন, সামিনা লুৎফা, সুমাইয়া খায়ের, তানজীমউদ্দিন খান, রোবায়েত ফেরদৌস, জোবাইদা নাসরীন, নোভা আহমেদ, জাকির হোসেন, সুব্রত চৌধুরী, সালমা আলী, মো. নুর খান, পাভেল পার্থ, রোজিনা বেগম, সাইদুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, দীপায়ন খীসা, হানা শামস আহমেদ ও মুক্তাশ্রী চাকমা।