ইসরায়েলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল নেতানিয়াহুর জোট
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইসরায়েলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল নেতানিয়াহুর জোট, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | জনবার্তা

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট। চূড়ান্ত ফলাফলে নেতানিয়াহুর সমর্থক জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি এবং আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই অর্জন করতে পারেনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলভিত্তিক আসনের চিত্র

নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ ২৭টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি এবং নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন বিয়াচাদ পার্টি পেয়েছে ১২টি আসন।

এ ছাড়া জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি, রা’আম ৮টি, ইসরায়েল বেইতেনু ৭টি, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৭টি, ওতজমা ইয়েহুদিত ৭টি, শাস ৬টি এবং রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টি ৬টি আসন পেয়েছে।

নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। দেশটির নির্বাচন কমিশনের হিসাবে মোট ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫টি ভোট পড়েছে।

আরব দলগুলোর আসন বৃদ্ধি, সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ

নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসন বৃদ্ধি। জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম মিলিয়ে ১৯টি আসন পেয়েছে, যা দেশটির পার্লামেন্টে আরব দলগুলোর জন্য ঐতিহাসিক অর্জন।

এই ১৯টি আসন সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিরোধী জোটের ৪৮টি আসনের সঙ্গে আরব দলগুলোর ১৯টি আসন যুক্ত হলে মোট আসন দাঁড়ায় ৬৭টি। তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট বা সহযোগিতা নিয়ে বিরোধী শিবিরের মধ্যেই মতপার্থক্য রয়েছে।

বিশেষ করে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী পক্ষের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া রাজনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষও নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার পথ খুঁজতে পারে।

নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকছেন নেতানিয়াহু

নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও আপাতত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নতুন সরকার গঠিত ও দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান সরকারই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।

অর্থাৎ ইসরায়েলে নতুন কোনো স্বতন্ত্র নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ঘোষণা আসেনি। বরং নির্বাচনের পরও বিদ্যমান সরকার দায়িত্বে থাকছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা চলবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু এখনো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।

সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে আগামী ৪ নভেম্বর। এরপর তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং নতুন সরকার গঠনের জন্য একজন সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দেবেন।

সাধারণত নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সুপারিশ ও জোট গঠনের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে প্রেসিডেন্ট এ সিদ্ধান্ত নেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রার্থীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হবে।

নতুন নেসেটের অধিবেশন বসার কথা আগামী ১০ নভেম্বর। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে। একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আগামী বছরের শুরুর দিকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে পারে ইসরায়েল।

সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও তাঁর রাজনৈতিক অধ্যায় এখনই শেষ হচ্ছে না। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর সামনে রয়েছে নতুন সরকার গঠনের সুযোগ। শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে পারে, তা নির্ভর করছে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।

তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এবং আল জাজিরা।