খুলনা: বেতন-ভাতার বাইরে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে খুলনা রেঞ্জের ২৮ পুলিশ সদস্যকে একযোগে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের মধ্যে পুলিশের বাবুর্চি থেকে শুরু করে উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার সদস্যও রয়েছেন। খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন থানা এবং ইউনিটে কর্মরত সদস্যদের এ তালিকায় রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ট্রাফিক ও গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত সদস্যও রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যাহার হওয়া অনেক সদস্য নিজ নিজ ইউনিটে ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি বেতন-ভাতার বাইরে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে শুদ্ধি অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং বাহিনীর প্রতি জনআস্থা তৈরির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইজিপির নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় খুলনা রেঞ্জে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশের দায়িত্ব আইন প্রয়োগ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ক্লোজড বা প্রত্যাহার প্রশাসনিক পদক্ষেপ; এটি নিজে থেকে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত ও পরবর্তী বিভাগীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ।



