জাতীয় | অর্থনীতি
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সময় আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুমোদন পেয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ) বাংলাদেশের এই আবেদন অনুমোদন করেছে। ফলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় নির্ধারিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নিউইয়র্কে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপালও উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত তিন বছর সময় পেয়েছে।
কীভাবে অনুমোদন পেল বাংলাদেশ?
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথা আবেদনে তুলে ধরা হয়।
এরপর জাতিসংঘের উন্নয়ননীতি-সংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) বাংলাদেশের আবেদন ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করে। গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) সাধারণ পরিষদকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ জানায়।
পরে উরুগুয়ের প্রতিনিধি গ্রুপ অব ৭৭ ও চীনের পক্ষে প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদে উত্থাপন করেন। কোনো দেশ আপত্তি না তোলায় কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
রপ্তানি খাতে কী সুবিধা হবে?
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাণিজ্যসুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে এই খাত থেকে।
অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যমান এলডিসি-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যসুবিধা ধরে রেখে অর্থনৈতিক প্রস্তুতি ও সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিতে পারবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সুবিধা ধরে রাখার ক্ষেত্রে সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সামনে কী করতে হবে?
বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত তিন বছরকে শুধু সময় বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখলে চলবে না। এ সময়ে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতের সংস্কার, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
নির্ধারিত নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে এগোবে। এই বাড়তি সময় দেশের অর্থনীতিকে আরও প্রস্তুত ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



