আবদুল আল-সাইয়েদ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল-সাইয়েদ

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১০:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে তিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম আমেরিকান হিসেবে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাইলফলক গড়েছেন। অবসর নেওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জয় পান ৪২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের নির্বাচনী ফল ঘোষণার ভিত্তিতে আল-সাইয়েদের জয় নিশ্চিত হয়েছে। তাঁর এ বিজয় মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৭৮৯ সালে মার্কিন সিনেটের যাত্রা শুরুর পর এই প্রথম কোনো মুসলিম আমেরিকান এ উচ্চকক্ষে নির্বাচিত হলেন।

মিশিগানের রচেস্টার হিলসে মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান আল-সাইয়েদ পেশাগত জীবনে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করেছেন। ২০০৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে স্নাতক শেষ করেন তিনি। পরে রোডস স্কলার হিসেবে ২০১১ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি নেন।

জনস্বাস্থ্য থেকে রাজনীতিতে

২০১৫ সালে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন আল-সাইয়েদ। শহরটির আর্থিক সংকটের পর জনস্বাস্থ্যসেবা কাঠামো পুনর্গঠনের কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে এ পদ ছাড়ার পর ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে অংশ নেন। তবে সে নির্বাচনে গ্রেচেন হুইটমারের কাছে পরাজিত হন।

পরবর্তী সময়ে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবিক ও প্রবীণ সেবাবিষয়ক বিভাগে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৬ সালে আবার নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় হন। গত আগস্টে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে হারিয়ে সিনেট নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পান।

স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার

নির্বাচনী প্রচারে আল-সাইয়েদ সবার জন্য মেডিকেয়ার বা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা চালু, আবাসন ব্যয় কমানো, রাজনীতিতে করপোরেট অর্থের প্রভাব সীমিত করা এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

তাঁর প্রচারে সমর্থন জানান ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারার কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং রাশিদা তালিব।

পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করেন আল-সাইয়েদ। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বিনা শর্তে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানান। তাঁর এ অবস্থান নির্বাচনী প্রচারে বিতর্কের অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে।

দলীয় বিরোধ ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে আল-সাইয়েদের কাছে পরাজিত হেইলি স্টিভেন্স নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন জানান। এতে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য আরও প্রকাশ্যে আসে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জয় পান আল-সাইয়েদ।

প্রচারের সময় তাঁর মুসলিম পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা তাঁর ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন। আল-সাইয়েদ এসব বক্তব্যের জবাবে বলেন, তাঁর নাম ও ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে মানুষের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২০০৬ সালে কিথ এলিসন প্রথম মুসলিম হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে রাশিদা তালিব ও ইলহান ওমর প্রথম মুসলিম নারী সদস্য হিসেবে প্রতিনিধি পরিষদে স্থান পান। এবার আল-সাইয়েদের সিনেটে জয় যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।