মোংলা বন্দরের ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর সফর
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর সফর বৃহস্পতিবার

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৮:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মোংলা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সফরে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

এর আগে গত ২২ অক্টোবর মোংলা বন্দর সরেজমিনে পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সময় তিনি বন্দরের জেটি ও কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, প্রকল্পের আওতায় বন্দরে দুটি নতুন কনটেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি পণ্য ওঠানামা ও পরিবহনের জন্য যুক্ত করা হবে ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৭৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে। বাকি ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা চীনের ঋণ থেকে আসবে। গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এ প্রকল্পের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেল যোগাযোগ চালুর উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে মোংলা বন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে রেলওয়ে-সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর থেকে কনটেইনার পরিবহনে রেলসেবা চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে বন্দরের পণ্য পরিবহনব্যবস্থা আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

নাব্যতা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের দাবি

এদিকে মোংলা বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিংয়ের দাবি জানিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। মোংলা বন্দর বার্থ শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বলেন, বন্দরের কার্যক্রম বাড়াতে সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন জরুরি।

তিনি ফয়লা বিমানবন্দর চালু এবং আকরাম পয়েন্টে দ্রুত এলএনজি স্টেশন নির্মাণেরও দাবি জানান। এসব অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।