যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ওয়াশিংটন ও মস্কোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবেন বলে মনে করছে ক্রেমলিন।
নির্বাচনের আগে গত সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবেন। পেসকভের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও মস্কো বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
৪ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী উদ্যোগে কংগ্রেসের বিরোধী দলের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এই পরিবর্তন রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ট্রাম্পের নীতিতে মস্কোর স্বার্থের প্রশ্ন
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপকে মস্কোর স্বার্থের অনুকূল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উদ্যোগ এবং রুশ ডিজেল রপ্তানির সুযোগ নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির সুযোগ এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনার কারণে ট্রাম্পের কিছু পদক্ষেপকে ক্রেমলিন রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হিসেবে দেখছে। তবে এসব পদক্ষেপের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।
ট্রাম্পকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সমালোচনা করতে দেখা গেলেও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিষয়ে তার বক্তব্য তুলনামূলকভাবে সংযত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অবস্থান থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতির চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে নতুন চ্যালেঞ্জ
রুশ সংবাদপত্র ‘নেজাভিসিমায়া গেজেতা’র সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ট্রাম্প প্রশাসন ডেমোক্র্যাটদের বিভিন্ন তদন্ত ও কংগ্রেসীয় নজরদারির মুখে পড়তে পারে। এতে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় রাশিয়াসংক্রান্ত মার্কিন নীতি, ইউক্রেনকে সহায়তা এবং যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তবে নির্বাচনের ফলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি সরাসরি বদলে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনো নেই।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের মেয়াদ অব্যাহত থাকলেও কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন তাঁর নীতিনির্ধারণী উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। ওয়াশিংটন-মস্কো সম্পর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমীকরণে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে মার্কিন প্রশাসন ও কংগ্রেসের পদক্ষেপের ওপর।



