যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেল ডেমোক্র্যাটরা
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেল ডেমোক্র্যাটরা

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির হাত থেকে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাল।

নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন ছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। তবে নির্বাচনে তারা প্রয়োজনের চেয়েও বেশি আসনে জয় পেয়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস, ওহাইও, কানসাস, আইওয়া ও মেইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের খবর পাওয়া গেছে।

নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়েছেন সাবেক গভর্নর রয় কুপার। সাউথ ক্যারোলাইনায় শিশু চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ পরাজিত করেছেন রিপাবলিকান ডারলিন গ্রাহামকে। টেক্সাসে অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো। অন্যদিকে ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন পরাজিত করেছেন রিপাবলিকান জন হুস্টেডকে।

কানসাসে অ্যাডাম হ্যামিলটন এবং আইওয়ায় জশ টুরেকও জয় পেয়েছেন। এসব ফলের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে এসেছে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডেমোক্র্যাটরা আইন প্রণয়ন, কমিটির নেতৃত্ব এবং প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাড়তি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকি ও বিভিন্ন বিষয়ে তদন্তের ক্ষেত্রেও দলটির ভূমিকা বাড়বে।

ডেমোক্র্যাটদের বর্তমান নেতা চাক শুমার এর আগে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন কংগ্রেসে তাঁকে আবারও ওই পদে নির্বাচিত করা হবে কি না, তা দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

নির্বাচনের ফলকে অনেক পর্যবেক্ষক ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন। তবে পরাজয়ের পর তিনি ফলকে নিজের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গণরায় হিসেবে দেখার ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন।

২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসের মেয়াদ শুরু হওয়ার কথা। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলে যাওয়ায় আগামী দুই বছর ট্রাম্প প্রশাসন ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়তে পারে।