কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আগানগর গ্রামে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে নতুন ক্রেতাদের জমিতে প্রবেশ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতাদের দাবি, আইনজীবীর মাধ্যমে কাগজপত্র যাচাই করে জমি কেনার পরও তাঁরা নিজেদের ক্রয় করা সম্পত্তির দখল নিতে পারছেন না। তবে প্রতিপক্ষের দাবি, জমিটি নিয়ে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
ক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগানগর মৌজার ৩১৭ নম্বর দাগের ১২ শতাংশ জমি তাহেরা বেগমের কাছ থেকে সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে আকবর হোসেনের কাছ থেকে তাঁরা কিনেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ডালিম, খোরশেদসহ কয়েকজনের দাবি, জমি কেনার আগে আইনজীবীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মালিকানাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়েছিল। এরপরই তাঁরা ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
তাঁদের অভিযোগ, জমি কেনার পর থেকেই অহিদুর রহমান, মনিরুল ইসলাম ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জমিতে প্রবেশে বাধা দিয়ে আসছেন। বিরোধ নিষ্পত্তিতে একাধিকবার আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমাধান হয়নি।
ক্রেতাদের অভিযোগ, গত শনিবার রাতে তাঁরা জমিতে বালু ফেলেন। পরদিন রোববার সকাল ১০টার দিকে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য ইট ও সিমেন্ট নিয়ে সেখানে গেলে অহিদুর রহমান, মনিরুল ইসলাম ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বাধা দেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংঘর্ষ এড়াতে তাঁরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান বলে জানান ক্রেতারা।
ব্যবসায়ী ডালিম বলেন, থানা-পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে ডাকা হলেও প্রতিপক্ষ উপস্থিত হয়নি। তাঁদের কাছে জমির দলিল রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অপর পক্ষেরও কোনো বৈধ কাগজপত্র থাকলে তা নিয়ে আলোচনায় বসা উচিত। কাগজপত্র যাচাই করে সঠিক সমাধান চান তাঁরা। যাচাইয়ে জমির মালিকানা প্রতিপক্ষের প্রমাণিত হলে জমি ছেড়ে দিতেও তাঁরা প্রস্তুত বলে দাবি করেন ডালিম।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অহিদুর রহমান বলেন, ছয় ভাই ও তাহেরা বেগমের মধ্যে জমি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে আদালতে মামলা চলছে। মামলার বিষয়টি জানার পরও ক্রেতারা অধিক মুনাফার আশায় জমিটি কিনেছেন বলে তাঁর দাবি। মামলা চলমান থাকায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জমিটি দখলমুক্ত রাখতে বাধা দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান, নামজারি এবং আদালতে চলমান মামলার নথি যাচাই করা প্রয়োজন। বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো পক্ষের জোরপূর্বক দখল বা সংঘাতে জড়ানো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।



