মিরপুরের সুইমিং কমপ্লেক্সে শেষ হয়েছে ৩৫তম জাতীয় সাঁতার, ডাইভিং ও ওয়াটারপোলো প্রতিযোগিতা। জাতীয় পর্যায়ে রেকর্ড ও পদক জয়ের আনন্দ থাকলেও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বাস্তবতা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাঁতারুদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাংলাদেশের সাঁতারুদের টাইমিংয়ে আরও উন্নতি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী বছর পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় এসএ গেমসকে সামনে রেখে জাতীয় প্রতিযোগিতার ফলাফল নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগেই কয়েকটি ইভেন্টে বাংলাদেশের সাঁতারুদের টাইমিং ২০১৯ সালের এসএ গেমসের পদকজয়ীদের চেয়ে পিছিয়ে। ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পদক জিততে হলে প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে বড় ধরনের উন্নতি জরুরি।
পুরুষ বিভাগে সাতটি স্বর্ণপদক জিতে সেরা হওয়া সামিউল ইসলাম রাফি ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে সময় নিয়েছেন ২৫.৮১ সেকেন্ড। ২০১৯ সালের এসএ গেমসে শ্রীলঙ্কার আকালঙ্কা পেইরিস রুপা জয়ের পথে সময় নিয়েছিলেন ২৪.৯৫ সেকেন্ড। সে হিসাবে রাফির টাইমিংয়ে ব্যবধান ০.৮৬ সেকেন্ড।
১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলেও রাফির টাইমিং ৫১.৮০ সেকেন্ড। ২০১৯ সালের এসএ গেমসে এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জজয়ীর সময় ছিল ৫০.৫৩ সেকেন্ড। অর্থাৎ, ওই সময়ের কাছাকাছি যেতে রাফিকে আরও ১.২৭ সেকেন্ড দ্রুত সাঁতার কাটতে হবে।
নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে রাফি বলেন, এসএ গেমসে পদক জিততে চান তিনি। জাতীয় প্রতিযোগিতার পর নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টাইমিং আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
ব্রেস্টস্ট্রোকেও ব্যবধানের চিত্র রয়েছে। সুকুমার রাজবংশী ৩০.২১ সেকেন্ডে ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক শেষ করেছেন। ২০১৯ সালের এসএ গেমসে রুপাজয়ী মোহাম্মদ আরিফুলের টাইমিং ছিল ২৮.৩৬ সেকেন্ড। সে হিসাবে সুকুমারের সময় ১.৮৫ সেকেন্ড বেশি।
নারী বিভাগে ব্যবধান আরও বেশি। ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ফাতিহা মাহতাবের টাইমিং ১ মিনিট ৩.৪৪ সেকেন্ড। ২০১৯ সালের এসএ গেমসে এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জজয়ীর সময়ের তুলনায় তা ৪.৪০ সেকেন্ড বেশি। অন্যদিকে, ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে জুঁই আক্তারের টাইমিং ৩১.২৭ সেকেন্ড। একই ইভেন্টে ২০১৯ সালের এসএ গেমসে ভারতের দিব্যা সতিজা সোনা জিতেছিলেন ২৮.০০ সেকেন্ডে।
তবে জাতীয় পর্যায়ে সাঁতারুদের উন্নতির কিছু উদাহরণও রয়েছে। পুরুষদের ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে সেরা টাইমিং ২০২৩ সালের ৪ মিনিট ১৭.৫৪ সেকেন্ড থেকে ২০২৫ সালে ৪ মিনিট ৬.৪৪ সেকেন্ডে নেমে এসেছে। রাফিও ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে ২০২৩ সালের ২৬.৯০ সেকেন্ড থেকে নিজের সময় কমিয়ে ২৫.৮১ সেকেন্ডে এনেছেন।
সাঁতার ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক সেলিম মিয়া জানিয়েছেন, এসএ গেমসের জন্য নিবিড় প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা চলছে। জাতীয় প্রতিযোগিতার পর কিছুদিন বিরতি দিয়ে গেমসের জন্য নতুন করে সাঁতারু নির্বাচন করা হবে। তাঁর আশা, টাইমিংয়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হলে এসএ গেমস থেকে দুই থেকে তিনটি স্বর্ণপদক জেতা সম্ভব।
জাতীয় প্রতিযোগিতায় রেকর্ড গড়া ও পদক জয়ের সাফল্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জিততে হলে সেই সাফল্যকে আরও উন্নত টাইমিংয়ে রূপ দিতে হবে। এসএ গেমসের আগে বাংলাদেশের সাঁতারুদের জন্য এটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।



