মিশিগানে মুসলিম প্রার্থীকে ঘিরে ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণা, বাড়ছে উদ্বেগ
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মিশিগানে মুসলিম প্রার্থীকে ঘিরে ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণার অভিযোগ, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে আসন্ন সিনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে ঘিরে ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনি প্রচারণায় তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম ও আরব-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে এসব পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেদের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা জানিয়েছেন সম্প্রদায়টির নেতারা।

ডেট্রয়েটে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অংশ নেওয়া একটি নির্বাচনি সমাবেশের বাইরে ডানপন্থি উসকানিদাতা হিসেবে পরিচিত জেক ল্যাংকে মুসলিমবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়। তাঁর হাতে ছিল বুলহর্ন। তাঁর সহযোগীদের হাতে ক্রুসেডের প্রতীকসংবলিত সামগ্রী ও রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রচারপত্র ছিল। এ সময় মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার হুমকিও দেন ল্যাং।

আরব ও মুসলিম অধিকারকর্মী সুহাইলা আমেন বলেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর বর্তমান মাত্রা তাঁর আগে কখনো দেখা হয়নি। তাঁর ভাষায়, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরবর্তী সময়ের তুলনায়ও বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বেশি প্রতিকূল।

ডিয়ারবর্ন শহরের মেয়র আবদুল্লাহ হামুদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, জরুরি সহায়তা নম্বর এবং সরাসরি ফোনকলের মাধ্যমে তাঁর শহরের বাসিন্দাদের প্রতিদিন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব ভীতি প্রদর্শনের মধ্যেও মুসলিম সম্প্রদায় রাজনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। হামুদের মতে, বিদ্বেষের জবাব দেওয়ার একটি উপায় হতে পারে আবদুল আল-সাইয়েদকে সিনেট নির্বাচনে বিজয়ী করা।

প্রচারণায় ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

নির্বাচনি প্রচারণায় রিপাবলিকান নেতাদের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সমাবেশে আল-সাইয়েদের নাম বিকৃত করে উচ্চারণ করেছেন এবং তাঁকে ‘জিহাদি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুড, হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তুলেছেন। আল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তাঁর ধর্মীয় পরিচয় ও বিতর্কিত অভিযোগ সামনে এনে ভোটারদের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এসব অভিযোগের পক্ষে রজার্সের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি।

পেশায় চিকিৎসক আল-সাইয়েদ মিশিগানেই জন্মগ্রহণ ও বেড়ে উঠেছেন। তিনি জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী। নির্বাচনে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।

রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজও আল-সাইয়েদকে ‘জিহাদি লেপ্রিকন’ বলে কটাক্ষ করেছেন এবং সিনেটের জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কমিটিতে তাঁর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের আরবদের বিজ্ঞান ও সাহিত্যে অবদান নিয়ে করা মন্তব্যও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকান মুসলিমস ফর প্যালেস্টাইনের যোগাযোগ পরিচালক আবদেলহালিম আবদেলরহমান বলেন, একজন প্রার্থীর ধর্মীয় পরিচয় ও নামকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে, যা ইসলামবিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ।

জরিপেও উঠে এসেছে ধর্মীয় পরিচয়ের প্রভাব

৯/১১ হামলায় ছেলেকে হারানো ট্রাম্পসমর্থক ডেভিড বিমারও আল-সাইয়েদের আমেরিকান পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, জন্মসনদ থাকলেই কাউকে প্রকৃত আমেরিকান বলা যায় না।

এদিকে, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, কোনো প্রার্থী মুসলিম হলে তাঁকে সমর্থন করার সম্ভাবনা তাঁদের কমে যেতে পারে। জরিপটি ২ থেকে ১৯ অক্টোবরের মধ্যে ১ হাজার ভোটারের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

সুহাইলা আমেনের মতে, রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরা যখন মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষ ছড়ান, তখন তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈষম্য ও ঘৃণাকে উসকে দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘মানুষের পছন্দ হোক বা না হোক, আমরা এই দেশের সামাজিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

অন্যদিকে, ট্রাম্পের সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্রায়ান প্যানেবেকার বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও ভোটারদের একজন ‘সমাজতান্ত্রিক ইসলামপন্থি’ প্রার্থীকে সমর্থন করা উচিত নয়।

মুসলিম অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও প্রশাসনের নীতিগত সমালোচনা থেকে জনমত সরাতে মুসলিম সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও স্থানীয় মুসলিম ও আরব-আমেরিকান নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে নাগরিক অধিকার চর্চা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানিয়েছেন।