ইসরায়েল নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইসরায়েল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না কেউ, ক্ষমতায় ফিরতে চাপে নেতানিয়াহু

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জনবার্তা ডেস্ক

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো পক্ষ। প্রাথমিক ফলাফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন থেকে পিছিয়ে রয়েছে তারা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইহুদি-ভিত্তিক বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৪৮। আরব-নেতৃত্বাধীন দুটি রাজনৈতিক দল—জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম—সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাবে উঠে এসেছে।

সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে আরব দলগুলো

প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। একইভাবে, ইহুদি-ভিত্তিক বিরোধী জোটও প্রয়োজনীয় আসন পায়নি। ফলে সরকার গঠনের আলোচনায় আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে বিরোধী জোটের একাধিক দল আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি জোট গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন সরকার গঠনে রাজনৈতিক সমঝোতা, জোটের পুনর্বিন্যাস কিংবা ঐক্য সরকার গঠনের মতো বিকল্প সামনে আসতে পারে।

বিশেষ ব্যালট গণনা বাকি

ভোট গণনার এই পর্যায়ে সেনাসদস্য, কূটনীতিক, বন্দি এবং নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের বিশেষ ব্যালট গণনা বাকি ছিল। এসব ভোটের হিসাব চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রাথমিক আসনসংখ্যাকে চূড়ান্ত ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ইসরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য নেসেটের অন্তত ৬১ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ

নির্বাচন ঘিরে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি আরব-অধ্যুষিত কিছু ভোটকেন্দ্রে ঘুষ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি ও নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। দলটি এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্ট এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির নেতা ইউসেফ জাবরিন বলেছেন, নেতানিয়াহুবিরোধী সরকার গঠনের উদ্যোগে তাঁদের জোট বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে, তবে সরাসরি সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তাদের অবস্থান আলাদা।

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনের ফলাফল নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, তাঁর দল রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবে। তবে চূড়ান্ত ফল ও বিভিন্ন দলের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত নতুন সরকার কোন সমীকরণে গঠিত হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, আল জাজিরা ও প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।