প্রেস বিজ্ঞপ্তি
আসন্ন ৩১ অক্টোবরের ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার আহ্বানে খুলনা মহানগরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিশাল শ্রমিক প্রতিনিধি সমাবেশ। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা মহানগরীর উদ্যোগে খালিশপুর বিআইডিসি সড়কে অবস্থিত শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট মিলনায়তনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উক্ত সমাবেশে থানা, ওয়ার্ড, নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন পেশার শ্রমিক প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোহাম্মদ তসলিম শ্রমিক সমাজকে তাদের অধিকার সুরক্ষায় এবং জাতীয় আন্দোলনকে সফল করতে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের জোর দাবি জানান।
খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুজ্জামানের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান সম্পাদক খান গোলাম রসূল, জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী যুব বিভাগের সভাপতি মোকাররম বিল্লাহ আনসারী, অঞ্চল সহকারী পরিচালক আজিজুর রহমান, অঞ্চল টিম সদস্য আল ফিদা হোসেন। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগরী সহ-সভাপতি এস এম মাহফুজুর রহমান, সাখাওয়াত হোসেন, নির্বাহী সদস্য আনিসুর রহমান, খালিশপুর থানা সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক বুলবুল কবির, দৌলতপুর থানার সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খান মাহবুবুর রহমান জুনাইদ, সোনাডাঙ্গা থানা সভাপতি খান আব্দুল অহিদ, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক, আড়ংঘাটা থানা সভাপতি শাহিনুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন তপু, বিআরইএল সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সদর থানা সহ-সভাপতি নাসিরুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মুরাদ সোহাগ, হরিণটানা থানা সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক তাইফুর রহমান, পরিবহন শাখার সভাপতি কামাল হোসেন, আসলাম শিকদার, আব্দুল বারেক, লবণচরা থানা সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আব্দুল ওহীদ, খুলনা সদর থানা ফার্ণিচার শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি আলী হায়দার নিরু, শ্রমিকনেতা মাওলানা শরিফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মুজাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, কামরুল ইসলাম, মাসুম, আবদুল কাদের, দবির উদ্দিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম বলেন, আজ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। শ্রমজীবী মানুষই এই দেশের মূল চালিকাশক্তি। কল-কারখানা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, পরিবহন ও কৃষিক্ষেত্রে দিনরাত ঘাম ঝরিয়ে যারা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন, সেই শ্রমিক সমাজই আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ও বঞ্চিত। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে শ্রমজীবী মানুষের জীবন আজ অতিষ্ঠ। ন্যায্য মজুরি, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিকের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি আজও উপেক্ষিত হয়ে আসছে।
তিনি বলেন, অধিকার আদায় করে নিতে হয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে। আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বানে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই লংমার্চ শুধু একটি সাধারণ কর্মসূচি নয়, এটি দেশের খেটে খাওয়া মানুষের বাকস্বাধীনতা, সুশাসন এবং মেহনতি মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার এক রাজপথের সংগ্রাম।
প্রধান অতিথি মাস্টার শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সবসময় শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য দাবির পক্ষে এবং জাতীয় যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে। আগামী ৩১ অক্টোবরের এই ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চকে সফল করতে খুলনার প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড, কল-কারখানা এবং প্রতিটি ট্রেড ইউনিয়নের শ্রমিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, খুলনা মহানগরীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও কর্মক্ষেত্রে লংমার্চের বার্তা পৌঁছে দিন। শ্রমিক সমাজকে সংগঠিত করুন। খালিশপুরের এই শিল্পাঞ্চল সবসময় অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ঐতিহ্যবাহী ভূমিকা পালন করেছে। এই ঐতিহ্য ধরে রেখে আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা থেকে যে মহাস্রোত তৈরি হবে, তা ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।#



