গাজীপুরে ষষ্ঠ দিনেও শ্রমিক বিক্ষোভ, থানায় হামলার চেষ্টা | জনবার্তা
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাজীপুরে ষষ্ঠ দিনেও শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও থানায় হামলার চেষ্টা

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৬:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলন ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড ও বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বড়বাড়ী এলাকায় শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের একটি অংশ বাসন থানার দিকে অগ্রসর হয়। তারা থানার ভেতরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, বুধবার সকাল থেকেই শিল্পাঞ্চলে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাছা থানা এলাকায় কয়েক হাজার শ্রমিক সড়কে নেমে এলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জয়দেবপুরের দিকে অবস্থান নেওয়া শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি জানান, কাশিমপুর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও সালনা, রাজেন্দ্রপুর, শফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

শিল্পাঞ্চলে ২৫ প্লাটুন বাহিনী মোতায়েন

শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি, আনসার ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (SRB) মোট ২৫ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ১২ প্লাটুন বিজিবি, পাঁচ প্লাটুন আনসার এবং আট প্লাটুন SRB সদস্য রয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় বিজিবির সদস্যসংখ্যা আগের ১১ প্লাটুন থেকে বাড়িয়ে ১২ প্লাটুন করা হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনের সুযোগ থাকলেও সহিংসতা, ভাঙচুর ও জনদুর্ভোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান

এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তাই শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার পাশাপাশি কোনো পক্ষের উসকানিতে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল না করার আহ্বান জানান তিনি। শ্রমিক, মালিক ও দেশের অর্থনীতির স্বার্থে শিল্পকারখানা সচল রাখা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন।

শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা

গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মজুরি বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যে সংঘর্ষে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া বিক্ষোভের সময় ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের সময় ভাঙচুরের ভিডিও ধারণ করছিলেন তৌফিক। এ সময় তাঁকে মারধর করা হয়। তবে তাঁর মৃত্যুর ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।