জনবার্তা ডেস্ক
ইরানের কেশম দ্বীপে আবারও সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সোমবার (২ নভেম্বর) হামলাটিকে ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে মার্কিন পক্ষ। তবে কী ধরনের হুমকির মুখে পড়ে এই অভিযান চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে দ্বীপটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন এই হামলার ঘটনা ঘটল। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামরিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার অবস্থান জানিয়েছেন। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও বড় ধরনের হামলার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেশম দ্বীপ কেন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ?
কেশম দ্বীপের গুরুত্বের মূল কারণ এর ভৌগোলিক অবস্থান। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত হরমুজ প্রণালির কাছে দ্বীপটির অবস্থান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক জাহাজ চলাচলের বড় প্রভাব রয়েছে। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির সক্ষমতা যেকোনো পক্ষের জন্যই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের একটি বড় জায়গা হলো, কেশম দ্বীপকে কেন্দ্র করে ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। মার্কিন পক্ষের ধারণা, দ্বীপটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, নৌঘাঁটি এবং উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এসব স্থাপনার বর্তমান অবস্থা ও সক্ষমতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য সীমিত।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি অনুযায়ী, গত জুলাইয়ের অভিযানে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ড সেন্টার, ড্রোন স্থাপনা এবং সামুদ্রিক সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছিল। ওই অভিযানে তিনজন নিহত হওয়ার কথা ইরান নিশ্চিত করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ বিভিন্ন সূত্রে কেশম দ্বীপে আগের কয়েকটি হামলার খবরও এসেছে। এসব ঘটনার পেছনে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক প্রভাব সীমিত করা এবং মার্কিন সামরিক সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল কাজ করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে প্রতিটি হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কারণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কেশম দ্বীপে ধারাবাহিক হামলার পেছনে একাধিক সামরিক ও কৌশলগত বিবেচনা থাকতে পারে।
সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা
হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপের অবস্থান একে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই এলাকায় পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, জ্বালানি বাজার



