রাজবাড়ীর পাংশায় মানবপাচারের মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পাচারের শিকার এক কিশোর ১৪ বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) রাজবাড়ী মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পাংশা উপজেলার ধুলিয়াট গ্রামের মো. রেজাউল মণ্ডল (পিতা: আদো মণ্ডল) ও মো. শাহিদুল মিয়া (পিতা: মৃত আতর আলী মিয়া)। রায় ঘোষণার সময় দুজনই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, মানবপাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া আইনের অন্য একটি ধারায় প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওই অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।
বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয় দুই কিশোরকে
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১০ মে রাত ১০টার দিকে রেজাউল ও শাহিদুল বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে মো. ফারুক ওরফে মারুফ (১৬) এবং তার খালাতো ভাই আজিজুল ইসলামকে নিয়ে যান। পরে তারা মানবপাচারকারীদের জিম্মায় পড়েন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার ১৭ দিন পর কৌশলে পালিয়ে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন আজিজুল। তবে ফারুক ওরফে মারুফের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে নিখোঁজ কিশোরের সন্ধানে অপেক্ষা করছে তার পরিবার।
পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি পলাতক থাকায় তাঁদের গ্রেপ্তারে নতুন করে পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে আগের জারি করা পরোয়ানা প্রত্যাহার করে নতুন পরোয়ানা জারির কথা বলা হয়েছে।
দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে নিখোঁজ কিশোরের সন্ধান না মেলা এবং মামলার দুই আসামির বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার ঘটনায় পরিবারটির অপেক্ষা ও উদ্বেগ আরও সামনে এসেছে।



