চাটমোহরে সারের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ, বাড়তি দামে বিক্রি
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চাটমোহরে সারের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ, জিম্মি সাধারণ কৃষকরা

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে একশ্রেণির সার ব্যবসায়ী ও ডিলারের বিরুদ্ধে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ কৃষকরা।

বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ করুন) চাটমোহর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা। সভায় বক্তারা বলেন, সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় কৃষকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কেউ কেউ বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার অনেকে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে জমি পতিত রাখার আশঙ্কায় রয়েছেন।

কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার না দিয়ে অপ্রয়োজনীয় সার কিনতে বাধ্য করার অভিযোগও ওঠে সভায়। বক্তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করে ইচ্ছামতো দাম নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলেও সভায় দাবি করা হয়।

সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা রবিউল করিম তারেক, শাহাদত হোসেন, মজনুর রহমান, অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম কালু, জামায়াত নেতা আসাদুজ্জামান মিঞা এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফুলচাঁদ হোসেন শামীমসহ অন্যরা।

বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ কয়েকটি বাজারের ডিলারদের বিরুদ্ধে

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে নিমাইচড়া ইউনিয়নের মির্জাপুর, মূলগ্রামের রেলবাজার, ডিবিগ্রামের বামনগ্রাম বাজার এবং ফৈলজানার শরৎগঞ্জ বাজারের কয়েকজন সার ডিলার। বিসিআইসি ডিলার আব্দুস সালাম সরকার, বামনগ্রাম বাজারের মাসুদ ও মোহাম্মদ আলী, শরৎগঞ্জ বাজারের ইউনুস আলী এবং মির্জাপুরের এক ডিলারের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের সার গুদামে মজুত রেখে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন খুচরা সার বিক্রেতা জানান, ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন। তবে অভিযুক্ত ডিলারদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

সরকারি দামে সার বিক্রির নির্দেশনা

সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ৫০ কেজির বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং এমওপি বা পটাশ ১ হাজার টাকা দরে বিক্রির কথা।

উপজেলায় বর্তমানে বিসিআইসির ১২ জন, বিএডিসির ১৭ জন এবং ৬৯ জন খুচরা সার বিক্রেতা রয়েছেন। উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে চাটমোহরে ৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৭৬০ হেক্টর।

কৃষি কার্যালয়ের হিসাবে, অক্টোবর মাসে উপজেলায় ইউরিয়া ৪৬৫ মেট্রিক টন, ডিএপি ৫৪০ মেট্রিক টন, টিএসপি ১৫০ মেট্রিক টন এবং পটাশ ২৮৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের

চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সার বিক্রির বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খালিদ হাসান সভায় বলেন, প্রতিটি সার বিক্রেতার দোকানে মূল্যতালিকা টাঙানো বাধ্যতামূলক। সারের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সুষম বণ্টন বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষকদের স্বার্থে সার সরবরাহ ও বিক্রির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।