বিয়ের বিতর্কে রাশমিকার জবাব, পাশে বিজয় দেবেরাকোন্ডা
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বামীর পাশে রাশমিকা, বিয়ের বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

করণ জোহরের জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মৌসুমে একসঙ্গে হাজির হওয়ার পর রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডার দাম্পত্যজীবন নিয়ে নেটদুনিয়ায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এই দম্পতির বিয়ের সিদ্ধান্ত এবং কে প্রথম বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গড়ায় যে ২৬ অক্টোবর দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে মুখ খুলতে বাধ্য হন রাশমিকা। শেষ পর্যন্ত দুজন মিলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে বিজয় ভবিষ্যতের বাস্তব দিকগুলো ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকবে, একসঙ্গে বয়স বাড়বে, গড়ে উঠবে ভবিষ্যৎ।

অনুষ্ঠানে করণ জোহরের প্রশ্নের উত্তরে রাশমিকা জানিয়েছিলেন, বিমানবন্দরে বসে তিনিই প্রথম বিজয়কে বিয়ের কথা বলেছিলেন।

বিজয়ের ভাষ্যমতে, সেই সময় তিনি মজা করে বলেছিলেন যে, তাকে রাজি করাতে হলে ১০০ বার বিয়ের প্রস্তাব দিতে হবে।

রাশমিকার কথায়, এরপর প্রায় এক বছর ধরে তিনি বিজয়কে বিয়ের কথা বলেছিলেন।

কিন্তু এই কথোপকথনটি প্রকাশ্যে আসার পর সমালোচকদের একাংশ বিজয়কে নিয়ে নানা বিতর্কিত মন্তব্য শুরু করেন। অনেকের অভিযোগ, বিজয় নাকি রাশমিকাকে ছোট করার চেষ্টা করেছেন বা বিয়ের ব্যাপারে তাকে অনাগ্রহী হিসেবে তুলে ধরেছেন। এমনকি কেউ কেউ এই আচরণকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন।

২৬ অক্টোবর নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে রাশমিকা স্পষ্ট করেন, সাক্ষাৎকারের মূল বিষয়বস্তু এড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে বিয়ের কথা বলার সংখ্যা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়কাল। তিনি জানান, বিয়ের বিষয়টি তাদের কাছে কোনো সংখ্যার খেলা ছিল না। রাশমিকার ভাষায়, তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি ছিল একে অপরকে ভালোভাবে বোঝা এবং জীবনের কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমি আমার স্বামীকে ভালোবাসি, তাতে সমস্যা কোথায়?” তাঁর বক্তব্য, স্বামীকে গভীরভাবে ভালোবাসার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি বিজয়কে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত তাকে হাজারবারও নিতে হতো, তবে তিনি তাতে দ্বিধা করতেন না। অভিনেত্রী জানান, তাদের কাছে বিয়ে মানে হাঁটু গেড়ে আংটি পরানো বা আনুষ্ঠানিক কোনো জমকালো আয়োজন নয়, বরং সারা জীবনের জন্য বন্ধু ও জীবনসঙ্গী হিসেবে একে অপরকে বেছে নেওয়া। যারা তাকে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে রাশমিকা বলেন, জীবনের কঠিন ও অসুস্থতার সময়ে যারা পাশে ছিলেন না, তাদের কাছ থেকে এমন উপদেশ কাম্য নয়। জীবনসঙ্গী হবেন এমন একজন, যিনি সাধারণ দিনগুলো থেকে অসাধারণ মুহূর্ত—সবকিছুর সঙ্গী হবেন।

নারীবাদ নিয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে রাশমিকা লিখেছেন, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সমালোচনা করার অধিকার মানুষের থাকতে পারে, কিন্তু তার পরিবারকে টেনে আনা বা নারীবাদের নামে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে হয়রানি করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, নারীবাদের অর্থ কাউকে ছোট করা নয়, বরং নিজের জীবনসঙ্গী ও চলার পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। আবার অনেকে মনে করছেন, দুজনের ব্যক্তিগত কথোপকথনকে অযথা বিতর্কে পরিণত করা হচ্ছে। সেখানে তিনি যেমন নিজের দাম্পত্যজীবন নিয়ে ছড়ানো ব্যাখ্যার জবাব দিয়েছেন, তেমনি প্রশ্ন তুলেছেন নারীবাদ, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও অনলাইন হয়রানির নামে অন্যের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও। তবে একটি অনুষ্ঠানের কথোপকথন থেকে বিজয়ের ব্যক্তিত্ব কিংবা তাঁদের সম্পর্কের প্রকৃতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টানা যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিনেত্রী জানান, শারীরিক অসুস্থতা, ব্যথা কিংবা উদ্বেগের মুহূর্তে বিজয় তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন। বিজয় লেখেন, ‘যাঁরা আমাদের নিয়ে চিন্তিত, তাঁদের জানাই, আমরা দুজনই ভীষণ সুখী।’।

বিজয়ের প্রতি তার ভালোবাসার কথা অকপটে স্বীকার করে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে জীবনের অন্যতম সুখী সময়ে আছেন এবং কাজের মাঝেও এই আনন্দ বজায় রয়েছে। ফলে বাইরের মানুষের করা অনুমান বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তৈরি করা গল্পের ভিত্তিতে তিনি সম্পর্কের মূল্যায়ন বদলে ফেলতে রাজি নন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে অসম্মানজনক আচরণ বা নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা বোঝাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শব্দটি বহুল ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে, ২৬ অক্টোবর নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে বিজয় দেবেরাকোন্ডাও রাশমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়ে পোস্ট করেন। তিনি রাশমিকাকে তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী হিসেবে বর্ণনা করেন। বিজয় স্পষ্ট জানান, তাকে এবং রাশমিকাকে যদি পুরো পৃথিবীর বিপরীতে দাঁড়াতে হয়, তবুও তারা একে অপরের পাশে থাকবেন। যারা তাদের সুখী জীবন নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি কড়া বার্তাও দেন। জীবনের সুখ-দুঃখ, চাপ ও পরিবর্তনের মধ্যেও তাঁরা একসঙ্গে থাকতে চান কি না, সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

বিজয় এবং রাশমিকা উভয়ই জানিয়েছেন যে, দাম্পত্যজীবন নিয়ে বাইরের মানুষের কোনো অনুমান বা মন্তব্য তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে না। এছাড়া সাক্ষাৎকারে পর্দায় নারীর উপস্থাপন, খোলামেলা পোশাক ও অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত সীমারেখা নিয়েও তারা খোলামেলা আলোচনা করেন। রাশমিকার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনি বা খোলামেলা পোশাক পরা কাজের অংশ হতে পারে, তবে এক্ষেত্রে অভিনেত্রীর নিজস্ব স্বস্তি ও সম্মতির বিষয়টি সবসময় অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। এই কথাগুলোর মধ্য দিয়ে রাশমিকা বোঝাতে চেয়েছেন, তাঁদের সম্পর্ককে বাইরের মানুষের নির্ধারণ করে দেওয়া কোনো ছাঁচে ফেলার প্রয়োজন নেই।

চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর অভিনয়শিল্পীর পক্ষে কোনো দৃশ্য বা পোশাক নিয়ে আপত্তি জানানো সহজ নয় বলেও তারা মত প্রকাশ করেন। তবে সব মিলিয়ে তাদের এই বক্তব্য বিয়ের গল্পের বাইরে গিয়ে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক বিচার এবং শিল্পীর স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকেও সামনে নিয়ে এসেছে।