"পাঠ্যবইয়ে বিতর্কিত প্রতীক” এবং “এনসিটিবির ৯ কর্মকর্তা বদলি"
ঢাকা, , |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাঠ্যবইয়ে বিতর্কিত প্রতীক: এনসিটিবির ৯ কর্মকর্তাকে বদলি

Tanvir Reza
অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে আর মাত্র দুই মাস বাকি থাকলেও পাঠ্যবই পরিমার্জন ও ভুল সংশোধন নিয়ে বড় ধরনের জটিলতায় পড়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ইতোমধ্যেই মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা প্রায় ২০ লাখ বই ফেরত এনে সংশোধনের কাজ চলছে। এ ঘটনার জের ধরে সোমবার এনসিটিবির নয়জন কর্মকর্তাকে একযোগে বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। এর আগের দিন আরও এক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল। এই ঘটনায় সোমবার এনসিটিবি’র ৯ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে পাঠ্য বই নিয়ে বেধেছে তালগোল। এনিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি)। পরবর্তী সময়ে বিষয়গুলো আরও পরিমার্জন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ব্যবহার করা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ২০২৫ সালের বইয়ে এই প্রতীক থাকলেও ২০২৬ সালে সেখানে মস্তিষ্কের ছবি আনা হয়েছিল। তবে ২০২৭ সালের সংস্করণে আবার ‘দাঁড়িপাল্লা’ ফিরে আসলে এনসিটিবি তা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। প্রথমে প্রতীক বদলের চিন্তা করা হলেও পরে এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান জানান, নতুন সিদ্ধান্তে জ্ঞানের পিরামিডের চার স্তরের নাম থাকবে, তবে কোনো আইকন বা প্রতীক রাখা হবে না। তবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার পুরনো নকশায় ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি ফিরে আসে। ‘দাঁড়িপাল্লা’ একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধিত নির্বাচনী প্রতীক হওয়ায় এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

একই সঙ্গে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বইয়ে ‘নৌকা’র ছবি ব্যবহার নিয়েও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই তিন শ্রেণির বাংলা বইয়ে মোট ৮২টি নৌকার ছবি রয়েছে—যার মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়েও এই ছবিগুলো ছিল।

বিতর্কের মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের নয় কর্মকর্তাকে বদলি করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ২৯শে অক্টোবরের মধ্যে তাদের বর্তমান কর্মস্থল ছাড়তে হবে, অন্যথায় সেদিন অপরাহ্নে তারা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। এর আগে আইসিটি বই সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা গবেষণা কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়। তবে বোর্ডের কিছু কর্মকর্তার অভিযোগ, বাংলা বইয়ের বিতর্কিত ছবির দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, বদলির পুরো প্রক্রিয়াটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিচালনা করে এবং কী কারণে এই বদলি করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

পাঠ্যবই পুনর্মুদ্রণ ও সংশোধনের এ প্রক্রিয়ায় সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। বর্তমানে প্রতিটি বই ছাপাতে প্রায় ৫৭ টাকা খরচ হয়, ফলে ২০ লাখ বই পুনরায় সংশোধনে অতিরিক্ত প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। আগামী ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে সংশোধিত নতুন বই সারা দেশে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনসিটিবি, যা নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে বোর্ডের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।