ভারতের জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা, তরুণদের ভবিষ্যৎ ও গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের সমালোচনা করেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, ‘আমি গর্বের সঙ্গে বলছি, আমি দিমাগি নকশাল।’ তাঁর ভাষ্য, তাঁর মতো মানুষের জন্য ‘দেশবিরোধী’ ও ‘টুকরে-টুকরে গ্যাং’-এর মতো নানা তকমা ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেএনইউ, সত্যজিৎ রায় ইনস্টিটিউট ও জামিয়ার প্রসঙ্গ
ভিডিওতে নাসিরুদ্দিন শাহ জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ), সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের তরুণদের মনোবল ভেঙে দেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুর্বল করা এবং গণতন্ত্রকে ঝুঁকির মুখে ফেলার চেষ্টা আর কত দিন চলবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যা ঘটছে, তা মানুষ মনে রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিনেতা বিজেপির আইটি সেলের সদস্যদেরও সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাজনৈতিক তকমার প্রসঙ্গ উঠে আসে।
ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন
জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীরা ২০০৬ সালে বিলুপ্ত হওয়া নির্বাচিত ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল, ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদনের সময়সীমা নির্ধারণ এবং নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করছেন।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার আন্দোলন ১৭তম দিনে গড়ায়। একই দিন ক্যাম্পাসে ভাঙচুর ও সহিংসতার দৃশ্য দেখা যায়—এমন কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বলেন, ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পর্যালোচনায় একটি কমিটি কাজ করবে বলেও তিনি জানান।
নাসিরুদ্দিন শাহ তাঁর ভিডিওর শেষাংশে আশাবাদ প্রকাশ করেন, তরুণদের মনোবল ভেঙে দেওয়া বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা সম্ভব হবে না এবং ভারতের গণতন্ত্র টিকে থাকবে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।



